মুর্শিদাবাদ(Murshidabad) জেলা আবারও সঞ্জীবনীর অপেক্ষায়। একদিকে গঙ্গাভাঙনের ভয়াবহতা, অন্যদিকে তা রোধের জন্য কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের উপেক্ষা। এই পরিস্থিতিতে, মুর্শিদাবাদে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি একদিকে যেমন কেন্দ্রকে দায়ী করেছেন, তেমনি অন্যদিকে গঙ্গাভাঙন রোধে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে ৪০০ কোটি টাকার একটি বিশাল বরাদ্দের ঘোষণা করেন।
গঙ্গা নদীর ভাঙনে প্রতি বছরই মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং এই সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। ভাঙনের কারণে প্রতিটি বর্ষা মৌসুমে সেখানকার অসংখ্য কাঁচা বাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কেন্দ্রের কাছে এই সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হলেও প্রতিবারই তা উপেক্ষিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন মুর্শিদাবাদের লালবাগের নবাব বাহাদুর ইনস্টিটিউশনে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে বলেন, “কেন্দ্রের বঞ্চনার জন্য আমরা আমাদের কাজ নিজেরাই করব। গঙ্গাভাঙন রোধে ৪০০ কোটি টাকার বরাদ্দ করা হয়েছে, যা কাজের জন্য ব্যবহার হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে আরও জানান, কেন্দ্রের কাছে বারবার গঙ্গাভাঙন রোধের জন্য অর্থ সাহায্য চাওয়া সত্ত্বেও তা না মেলায়, রাজ্য সরকার এবার নিজেই উদ্যোগী হয়ে এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, “এটা শুধু আমাদের রাজ্যের সমস্যা নয়, এটি আমাদের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ও। নদীর পাড় ভাঙনের ফলে প্রতিবারই ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে কেন্দ্র কখনো আমাদের সহায়তা করেনি। বন্যা কিংবা ভাঙন—এগুলো যখন ঘটে, তখন কেন্দ্রের কারও পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা পাওয়া যায় না।”
এদিন মুর্শিদাবাদ সফরে এসে একাধিক কেন্দ্রীয় বঞ্চনার উদাহরণ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে একশো দিনের কাজের দাবিতে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত মন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও, তিনি সাক্ষাৎ দিতে অস্বীকার করেছিলেন। এর পরিণতি হিসেবে তৃণমূলের প্রতিনিধিদের দিল্লি পুলিশের হাতে হেনস্থার শিকার হতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা আমাদের রাজ্যের জন্য অপমানের বিষয় ছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী একটাও সময় দেননি আমাদের প্রতিনিধিদের। অথচ, আমরা মানুষের স্বার্থে লড়াই করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছি।”
আরও পড়ুনঃ কোর্টের রায় শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়ল নির্যাতিতার পরিবার! ‘১৭ লাখ নয়, আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই!’
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৪০০ কোটি টাকার এই বরাদ্দের মাধ্যমে মুর্শিদাবাদের গঙ্গাভাঙন রোধে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হবে, যাতে করে ভাঙনের ভয়াবহতা কমানো সম্ভব হয়। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এবার আর কেন্দ্রের সাহায্যের অপেক্ষা করব না। আমরা নিজেরাই রাজ্যের উন্নতি ও মানুষের স্বার্থে কাজ করব।” এদিকে, মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দারা মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদী হয়েছেন।





