দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে সোমবার রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তৈরি হলো নতুন চমক। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করে আসা সন্তু পান, যিনি রিপাবলিক বাংলার পরিচিত মুখ, সরাসরি রাজনীতির ময়দানে পা রাখলেন। তার বিজেপিতে (BJP) যোগদান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়। রাজ্য রাজনীতিতে এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
সন্তু পান আগে থেকেই রাজনৈতিক আলোচনায় ছিলেন। গত বছর আইপ্যাক (Ipac) ঘটনায় তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, “কয়লা পাচারের টাকা গোয়া ভোটে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা।” সেই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তার নাম ঘুরেফিরে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। গ্রেফতার হওয়ার পরেও তিনি জনমনের নজর কাড়েন। এবার সাংবাদিকতা ছেড়ে সরাসরি রাজনীতিতে যোগদান করে তিনি নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন।
মথুরাপুরে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র দ্বিতীয় দফার উদ্বোধনে অমিত শাহের উপস্থিতিতে সন্তু পান হাতে পদ্মফুলের পতাকা নিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন। তিনি বিজেপির নতুন মুখ হিসেবে স্বাগত জানানো হয় এবং তাতেই রাজ্যের রাজনৈতিক বাতাসে উত্তেজনা আরও বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংবাদমাধ্যমের পরিচিত মুখের রাজনৈতিক যাত্রা সবসময়ই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে যেখানে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিতর্কিত প্রশ্ন তুলেছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সন্তু পান তারকেশ্বর আসন থেকে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হতে পারেন। সাংবাদিকতার পরিচিতি এবং জনসংযোগের কারণে তিনি নতুন রাজনৈতিক ফ্রন্টে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন। তবে এই পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং সমালোচনা ও শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সাংবাদিকতা থেকে রাজনীতিতে এত দ্রুত স্থানান্তর কি কতটা স্বাভাবিক, আর এর প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে কতটা হবে।
আরও পড়ুনঃ বনগাঁ কাণ্ডে চরম মোড়! আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর অভিযোগে, কাঠগড়ায় মিমি! মানহানি ও ক্ষতিপূরণে আইনি লড়াই তুঙ্গে! উভয় পক্ষের দাবি-দাওয়াতে, আদালতের চূড়ান্ত রায় কী?
সন্তু পানের বিজেপিতে যোগদান রাজ্য রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। সংবাদমাধ্যম থেকে রাজনীতিতে এধরনের পরিবর্তন সবসময়ই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যত কেমন হবে, তারকেশ্বর আসনে তিনি প্রার্থী হবেন কিনা এবং নির্বাচনী মাঠে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেমন হবে—এসব প্রশ্ন এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। তবে একথা নিশ্চিত যে, সাংবাদিক সন্তু পান এবার সরাসরি রাজনীতির ময়দানে, এবং তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে থাকবে সাধারণ মানুষের।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!