আর জি করের ঘটনার প্রতিবাদে গোটা রাজ্য তথা দেশ সরব। দিকে দিকে প্রতিবাদের ঢেউ। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রথম দিন থেকেই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। নিজেদের দাবীতে অনড় তারা। তাদের পাঁচ দফা দাবী না মানা হলে তারা কাজে ফিরবেন না, এমনটা জানিয়েই দিয়েছেন। এবার জুনিয়র চিকিৎসকদের কার্যত হুঁশিয়ারি দিতে শোনা গেল দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে।
তৃণমূল ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগের দিনই জানিয়েছেন, জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবী যুক্তিসংগত। সরকার তাদের অনেক দাবী মেনেও নিয়েছে বলে জানান তিনি। এবার জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে ফেরা উচিত বলে বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। তবে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের কথায়, তাদের সমস্ত দাবী পূরণ না হলে তারা কাজে যোগ দেবেন না। এই নিয়েই এবার জুনিয়র চিকিৎসকদের কটাক্ষ শানালেন সৌগত রায়।
জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে ফেরার জন্য রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে সৌগত রায় বললেন, “তাঁদের কাজে ফিরে যাওয়া উচিত বলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টও একই বার্তা দিয়েছেন। এরপরও যদি তাঁরা অনড় থাকেন, তাহলে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে”।
তৃণমূল সাংসদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অনড় থাকার মূল্য জুনিয়র ডাক্তারদের দিতে হবে। এতদিন সরকার প্রচণ্ড সংযম দেখিয়েছে। পুলিশ একটা জায়গায়ও বাধা দেয়নি। এবার যদি সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়। এখন তো একটা সময় হচ্ছে যে এটাকে শেষ করতে হবে। প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত ক্রিয়া রয়েছে। ওরা একটা কিছু করছে, তার তো একটা প্রতিক্রিয়া হবে কোনও জায়গায়”।
জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনকে তাচ্ছিল্যও করেন তিনি। বলেন, “আমি অনেক আন্দোলন দেখেছি। এ বিরাট কোনও আন্দোলন নয়। ৬-৭ হাজার ডাক্তার কী গণ আন্দোলন করবে”?
আরও পড়ুনঃ আর জি কর কাণ্ডের জেরে আগেই ফেরানো হয়েছিল সরকারের অনুদান, এবার চাঁদার বিলেও ‘বিচার চাই’-এর স্ট্যাম্প দক্ষিণ কলকাতার বড় পুজো কমিটির
তৃণমূল সাংসদের এই হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে চিকিৎসক কৌশিক চাকী বলেন, “মূল্য তো আমাদের একজন বোন জীবন দিয়ে চুকিয়েছেন। সবাইকে সম্মান জানিয়েই বলছি, গণতান্ত্রিক দেশে একটা গণতান্ত্রিক আন্দোলন হচ্ছে। সিনিয়র চিকিৎসকরা প্রাণপাত করে সেবা করে চলেছেন। সেখানে অগণতান্ত্রিক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে, আইনিভাবে তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।





