একাই একশো! যিনি প্রধান শিক্ষক, তিনিই রাঁধেন মিড ডে মিল আবার তিনিই বাজান ঘণ্টা! শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে বাংলার স্কুল

School Has Only One Teacher: কথায় বলে ‘সে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’। কিন্তু এখানে তো যিনি রাঁধেন, তিনিই আবার প্রধান শিক্ষক-পিয়নের দায়িত্ব পালন করেন। স্কুলে নেই অন্য কোনও শিক্ষক। ফলে সমস্ত দায়িত্ব একা প্রধান শিক্ষকের উপরেই। তিনিই পড়ুয়াদের পড়াচ্ছেন, তিনিই সময়ে সময়ে ঘণ্টা বাজাচ্ছেন আবার তিনিই রাঁধছেন মিড ডে মিলও (School Has Only One Teacher)। শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে বাংলার সরকারি স্কুল।

রাজ্যে একদিকে যখন শিক্ষক নিয়োগের জন্য রাস্তায় বসে দাবী জানাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা, সেই সময় বাংলার স্কুলে স্কুলে ধরা পড়ছে শিক্ষকের আকাল। শিক্ষা ও স্কুলের চূড়ান্ত অব্যবস্থা ধরা পড়ল আসানসোল পুরনিগমের ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুলটি বিধানসভার হিরাপুর চক্রে বিনোদবাঁধ অবৈতনিক (এফপি) স্কুলে। ওই স্কুলে শিশুশ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পঠনপাঠন হয়। ৬টি ক্লাস মিলিয়ে মোট ৩৮ জন পড়ুয়া রয়েছে। সকলেই প্রতিদিন স্কুলে আসে। কিন্তু স্কুলে শিক্ষক মাত্র একজন (School Has Only One Teacher)

জানা গিয়েছে, এই স্কুলে আগে তিনজন শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু ২জন বদলি নিয়ে চলে যান। সম্প্রতি একজন শিক্ষিকাকে এই স্কুলে যাওয়ার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে বটে কিন্তু এই এলাকার বেহাল রাস্তার জন্য তিনি স্কুলে আসতে নারাজ। ফলে প্রধান শিক্ষক মধুসূদন পালের কাঁধেই গোটা স্কুলের দায়িত্ব। পড়ুয়াদের ৬টি ক্লাসরুমে না বসিয়ে দুটি ক্লাসে বসানো হয়। মধুসূদনবাবু একবার এই ঘর আর একবার ওই ঘরে গুয়ে গিয়ে ক্লাস করান। মাঝে গিয়ে আবার মিড ডে মিলের রান্নাবান্নাও দেখে আসেন। আন্তরিকতায় কোনও কমতি নেই কিন্তু এইভাবে স্কুলের পঠনপাঠন হচ্ছে না বলে দাবী প্রধান শিক্ষকের (School Has Only One Teacher)

আদিবাসী অধ্যুষিত পড়ুয়াদেরও দাবী, স্কুলের জন্য নতুন শিক্ষক-শিক্ষিকা চাই। এই বিষয়ে জেলা স্কুল পরিদর্শক দেবাশিস সরকার জানান, “বিদ্যালয়টিতে শূন্য পদ তৈরি হয়েছে। একজন শিক্ষিকা নিয়োগ হয়েছিলেন। কিন্তু ওই গ্রামে যাওয়ার রাস্তা এতটাই বেহাল, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেই। বিনোদবাঁধ যেতে অসুবিধা বলে তিনি অন্য স্কুলে বদলি নেওয়ার আবেদন করেছেন। ওই স্কুলে অন্য শিক্ষক পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু মূল সমস্যা রাস্তা। আমরা প্রয়োজনে স্থানীয় কাউন্সিলর বা মেয়রের সঙ্গে কথা বলব। বিষয়টি শিক্ষা দফতরকেও জানানো হয়েছে। দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে”।

আসানসোল পৌরনিগমের মেয়র পরিষদ (শিক্ষা) সুব্রত অধিকারী আবার বেহাল রাস্তার জন্য স্কুলের এই অবস্থা তা মানতে নারাজ। তাঁর কথায়, শিক্ষিকাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি যখন আসছেন না সেখানে তাঁরই গাফিলতি রয়েছে (School Has Only One Teacher)

স্কুলের একমাত্র শিক্ষক মধুসূদন বাবু বলেন, “অমানসিক চাপ নিয়ে সব দিক সামলাচ্ছি। আমারও অন্যত্র চলে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। কিন্ত আমি পড়ুয়াদের কথা ভেবে আর যাইনি। আমি স্থানীয় তাই কষ্ট করে হলেও স্কুলে সময় মত পৌঁছে যাই। কয়েক মাস ধরে ছুটি নিতে পারিনি। আমার একদিন অনুপস্থিতিতে স্কুলে তালা পড়ে যাবে। তবে এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে পারে না। উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ দরকার” (School Has Only One Teacher)

RELATED Articles