পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের চাল চুরির অভিযোগ স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধেই, উত্তম-মধ্যম দিলেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা

মিড ডে মিলে দুর্নীতি নিতে রাজ্যে উঠেছে নানান অভিযোগ। এরই মধ্যে এক ঘটনার কথা সামনে এল রাজ্য থেকেই। মিড ডে মিলের চাল চুরির অভিযোগ উঠল স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। স্কুলের শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল চালের ড্রাম। শিক্ষকদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন গ্রামবাসীরা। এরপর শিক্ষককে উত্তম-মধ্যম দিয়ে তালা মেরে আটকে রাখেন তারা। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।

কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?

এই ঘটনাটি ঘটেছে দেগঙ্গার চৌরাশি গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজুক বেড়িয়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরেই বুঝতে পারছিলেন যে মিড ডে মিলে গরমিল হচ্ছে। কিন্তু ধরতে পারছিলেন না। তাদের দাবী, স্কুলের টিচার ইন চার্জ সমীর কুমার দীর্ঘদিন ধরে মিড ডে মিলের চাল চুরি করছেন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মিড ডে মিলের চাল চুরি করে তা শৌচাগারে লুকিয়ে রাখতেন তিনি। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। আজ, শনিবার সকালে গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্কুলে যান। তালা দিয়ে স্কুলের টিচার ইন চার্জ সমীর কুমার দে এবং পার্শ্ব শিক্ষক চৈতন্য পালকে আটকে রাখেন তারা।

থানায় খবর দেওয়া হলে স্কুলে পৌঁছয় দেগঙ্গা থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। গ্রামবাসীদের অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা যায় সত্যিই স্কুলের শৌচাগারে ড্রামে করে চাল চুরি করে রেখে দেওয়া হয়েছে। টিচার ইন চার্জ সমীর কুমার ও পার্শ্ব শিক্ষক চৈতন্য পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন গ্রামবাসীরা।  

ধরা পড়তেই একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাতে থাকেন শিক্ষকরা। টিচার ইনচার্জকে নিশানা করে পার্শ্বশিক্ষক দাবী করেন, তাঁর সই জাল করে মিড ডে মিলের চাল দিনের পর দিন চুরি করে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। সেই দাবী অস্বীকার করেন টিচার ইন চার্জ। তাঁর আবার পাল্টা অভিযোগ, তাঁর আমলে মিড মিলের দুর্নীতি হয়নি। তিনি এও অভিযোগ করেন যে চৈতন্য পাল নাকি পড়ুয়াদের বই বিক্রি করে দেন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রতিদিন ৪০-৫০ জন পড়ুয়া দেখিয়ে চাল চুরি করেন শিক্ষকরা। শনিবার এই বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসী। অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী তুলেছেন গ্রামবাসীরা। ক্ষিপ্ত জনতার থেকে উদ্ধার করে দুই শিক্ষককে নিয়ে যায় পুলিশ।

RELATED Articles