ফের স্কুলের মধ্যে ঢুকে গুণ্ডাগিরি বহিরাগতদের। স্কুলের ঢুকে শিক্ষককে বেধড়ক মা’র’ধ’রের অভিযোগ উঠল কিছু লোকজনের বিরুদ্ধে। স্কুলের ভিতরেই এক ছাত্রীকে যৌ’ন হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনাতেই এই জনরোষ বলে অভিযোগ। যদিও শিক্ষক-শিক্ষিকারা সেই অভিযোগ মানতে নারাজ।
কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার নরেন্দ্রপুরের বলরামপুর মন্মথনাথ বিদ্যামন্দিরে। আজ, শনিবার ক্লাস চলাকালীন স্কুলে হানা দেয় ৫০-৬০ জন বহিরাগত। সোজা টিচার্স রুমে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মা’র’ধ’র করা হয়। এক শিক্ষককে মাটিতে ফেলে হেলমেট দিয়ে মা’র’তে দেখা গিয়েছে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে। মোবাইল ভাঙা হয়েছে। এমন ঘটনায় কেঁদে ফেলেন শিক্ষিকারা। স্কুলের ভিতরে আঁতকে পড়েন তারা।
কেন এই কাণ্ড?
অভিযোগ, স্কুলের এক ছাত্রীকে যৌ’ন হেনস্থা করেছেন এক শিক্ষক। সেই কারণেই এমন জনরোষ। যদিও শিক্ষক-শিক্ষিকারা সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকোচ করেছেন। তাদের পাল্টা দাবী, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি নিয়ে তারা সরব হয়েছেন বলেই এমন কাজে মদত দিয়েছেন খোদ প্রধান শিক্ষক।
কী জানাচ্ছেন আক্রান্ত শিক্ষক?
শিবনাথ ঠাকুর নামে আক্রান্ত এক শিক্ষক বলেন, “আমি ক্লাস নাইন-বিতে ফিজিক্স পড়াচ্ছিলাম। বাইরে খুব চিৎকার শুনতে পাই। দেখি পিলপিল করে লোক ঢুকছে। অকথ্য গা’লা’গা’ল করছে। এরপর দেখি স্টাফ রুমে ২০-৩০ জন লোক ঢুকে গিয়েছে। আমাকে দেখতে পেয়ে খুব মারল। তবে একটা কথা বলতে পারি হেড স্যরের দুর্নীতিগুলি জেনে গিয়েছি। তা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে। সেই কেস তুলে নেওয়ার জন্য দিনের পর দিন আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকির পাশাপাশি মা’র’ধ’রের হুমকিও দিয়েছিল। আজ মা’রা হল”।
কী বক্তব্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকের?
যদিও স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, “সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। এরা দীর্ঘকাল স্কুলে একটা অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তা আমি কঠিন হাতে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। স্কুলের সুনাম নষ্ট হয় এমন কিছু আমরা কেন করব”?
এমন ঘটনার পর শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্রপুর পুলিশ আসে স্কুলে। বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেছেন, “১০০ শতাংশ পদক্ষেপ করা হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না। রিপোর্ট তলব করছি এখনই”।





