আর জি করের কাণ্ডের জেরে অনেক মানুষই বলেছিলেন যে তারা ‘উৎসবে ফিরছেন না’। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে লেখালেখিও হয়েছিল বিস্তর। কিন্তু মহালয়া আসতেই যেন সেই চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে গেল। মহালয়ার সন্ধ্যেতেই যে হারে লোকজন মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমিয়েছিল, তাতে বোঝার উপায় ছিল না এদিন আদতে মহালয়া নাকি অষ্টমী-নবমীর সন্ধ্যা।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে বেশ চিন্তিত জুনিয়র চিকিৎসকরা। আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনার পর প্রায় ৪৩ দিন টানা কর্মবিরতি পালন করেছেন তারা। মাঝে তাদের কিছু দাবী সরকার মেনে নিলে আংশিক কর্মবিরতি তুলে নিয়েছিলেন তারা। তবে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফের জুনিয়র চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনায় ফের পূর্ণ কর্মবিরতি শুরু করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।
তবে মানুষ যদি পাশে না থাকে, তাহলে এই কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়া যে বেশ কঠিন হবে, তা বুঝতে পারছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সেই কারণেই আজ, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকে বসলেন তারা। কর্মবিরতির বিকল্প হিসেবে কীভাবে আন্দোলন জিইয়ে রাখা জায়,তা নিয়ে চলে আলোচনা।
জানা গিয়েছে, এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সার্জারি, ইএনটি, কার্ডিওলজি, স্ত্রীরোগ সহ একাধিক বিভাগের চিকিৎসকরা। সিনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের মতে, জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনে সাধারণ মানুষ সামিল হয়েছেন, তাদের সমর্থন জুগিয়েছেন। তাই তাদের কোনও অসুবিধা যাতে না হয়, সে কথা মাথায় রেখেই কর্মবিরতি তুলে নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সিনিয়ররা।
তাহলে কী কর্মবিরতি তুলে নেবেন জুনিয়র চিকিৎসকরা? এমন প্রশ্নই এই মুহূর্তে ঘোরাফেরা করছে। এই বিষয়ে চিকিৎসকদের আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো জানান, “দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। কর্মবিরতি প্রত্যাহার নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি”।
জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে চিকিৎসক মৈত্রী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সবাই চাইছি আন্দোলন চলুক। কিন্তু অন্তত আংশিক হলেও কাজে ফিরুক। বৈঠক চলছে”। আবার চিকিৎসক তাপস প্রামাণিকও সহমত পোষণ করে বলেন, “আমরা চাইছি কর্মবিরতি তুলে নিক। ইমার্জেন্সি মেডিসিনের অধ্যাপকরা প্রস্তাব দিয়েছি”। এবার দেখার পালা জুনিয়র চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত কী হয়!





