ফের ছাত্রমৃত্যু! স্কুলের গাফিলতিতে মৃত্যু পড়ুয়ার, প্রধান শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ স্থানীয়দের, রণক্ষেত্র এলাকা

বুধবারই এক ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়েছে শহরের পরিস্থিতি,। প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ তুলে দেখানো হয় তুমুল বিক্ষোভ। এরই মাঝে এবার ফের এক ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হল পরিস্থিতি। স্কুলের গাফিলতিতেই মৃত্যু হয়েছে ওই ছাত্রের, এমনটাই অভিযোগ অভিভাবক ও স্থানীয়দের। এই ঘটনায় স্কুলে তুমুল বিক্ষোভ দেখান তারা। ঘেরাও করে রাখেন প্রধান শিক্ষককে।

ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া থানার কোশিগ্রাম ইউনিয়ন ইনস্টিটিউটে। জানা গিয়েছে, ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ইন্দ্রজিৎ মাঝি। গত মঙ্গলবার স্কুলের ক্লাসের পর জল খেতে গিয়েছিল সে। সেই সময় ঘাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকে কিছু একটা ওই ছাত্রের পায়ে কামড় দেয়। একটা প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি ওই কামড়ের জায়গায় ডেটল দিয়ে দেন বলে খবর।  

এরপর ক্লাস করে বাড়ি ফিরে আসে ছাত্র। পরিবার সূত্রে খবর, দুপুরে খাওয়াদাওয়া করে বিকেলে টিউশন পড়তেও যায় সে। সেখানে অসুস্থ বোধ করতে থাকে ওই ছাত্র। গৃহশিক্ষক তাকে বাড়িতে দিয়ে যান। পরিবারের লোকজন জানান, সেই সময় কথাই বলতে পারছিল না ওই শিশু। তারা মাথায় জল ঢালেন। চোখে মুখে জল দিলেও হুঁশ ফেরেনি। কাটোয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে গেলে ওই ছাত্রকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গতকাল, বুধবার দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।

গতকাল, বুধবার মহালয়ার ছুটি ছিল। আজ, বৃহস্পতিবার স্কুল খুলতেই মৃত ছাত্রের ছবি হাতে নিয়ে স্কুলে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান পরিবার ও গ্রামবাসীরা। প্রধান শিক্ষকের ঘর ভাঙচুর করা হয়। তাঁকে ঘিরে চলে বিক্ষোভ। কাটোয়া-বোলপুর রোড অবরোধ করা হয়।  

এই ঘটনায় মৃত ছাত্রের বাবা কার্তিক মাঝি বলেন, “আমার ছেলে খেলার সময় স্কুলের ভিতর যখন কিছু একটা ওর পায়ে কামড়ায় তৎক্ষণাৎ ছেলে প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছিল। প্রধান শিক্ষক ভেবেছিলেন খেলতে গিয়ে পড়ে গিয়ে ছিঁড়ে গিয়েছে। একটু বরফ ঘষে ডেটল লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্কুল থেকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বাড়িতেও জানানো হয়নি। তাই চিকিৎসা করানোর সময় পর্যন্ত পেলাম না। ছেলেটাকে হারাতে হল প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণে”।

আরও পড়ুনঃ ‘মানুষ ওদের ভগবান ভাবে, সেই ভগবানরাই মানুষকে অবহেলা করছে…’, জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি নিয়ে তাদের কটাক্ষ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 

ঘটনা প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক পূর্ণেন্দু বন্দোপাধ্যায়ের দাবী, “ওই ছাত্রকে যে স্কুলে সাপে কামড়েছিল তা আমরা জানতামই না। আমাকে কেউ বলেনি। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদের জিজ্ঞাসা করে দেখেছি ওদিন ওরকম ঘটনার কথা কেউ জানতেন না। যদি জানতাম নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নিতাম”।

আরও অন্যান্য খবর