রাজ্যের একাধিক জায়গায় পুরভোট কভারে গিয়ে আক্রান্ত একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি, মাটিতে ফেলে মার ‘তৃণমূলী’দের, নির্বাক দর্শকের ভূমিকায় পুলিশ

রাজ্যের নানান জায়গা থেকে নানান সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মারধরের অভিযোগ উঠে আসছ। পুরভোট কভারে গিয়ে একাধিক জায়গায় হামলার মুখে পড়তে হয় সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের। ক্যামেরাতেই উঠে এল সেই সব ছবি।

জানা গিয়েছে উত্তর দমদমের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএম প্রার্থীকে বুথে ঢুকতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছিল তৃণমূলের তরফে। সিপিএম কর্মীদের তৃণমূল কর্মীরা ধাওয়া করে বলেও অভিযোগ। এরপর সিপিএম প্রার্থী সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে ফের বুথমুখী হওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে আটকানো হয়। শুরু হয় বচসা। সেই ছবি কভার করতে গেলে টিভি ৯ বাংলার চিত্র সাংবাদিক দীপঙ্কর দাসের উপর হামলা করে তৃণমূল কর্মীরা। এদের মধ্যে কয়েকজন মহিলাও ছিলেন। চিত্র সাংবাদিকের বুকে-পেটে লাথি, ঘুষি মারা হয় বলে অভিযোগ।

আক্রান্ত চিত্র সাংবাদিক দীপঙ্কর দাস বলেন, “অনেক জন বুকে পেটে লাথি মেরেছে। ভারী কোনও বস্তু দিয়ে মাথাতেও পিছন থেকে মারে ওরা। ওদের এতবার বলেছিলাম, মারছো তো, কিন্তু ক্যামেরাটা ভেঙো না। অনেক টাকা দাম। কিন্তু ক্যামেরাটাকে ভেঙে গুড়িয়ে দিল। রিসিভারটাও পারছি না। পেটে অসহ্য পেটে করছে”।

এই ওয়ার্ডেই আক্রান্ত এবিপি আনন্দের সাংবাদিক সুকান্ত মুখোপাধ্যায় ও চিত্র সাংবাদিক শ্যামল জানা। জানা গিয়েছে, সেই ওয়ার্ডের সিপিএম প্রার্থীকে মারধর করা হচ্ছে শুনে তা কভার করতে যান সুকান্ত মুখোপাধ্যায়। সেখানে বহিরাগতরাআ ছিল বলে অভিযোগ। তাদের পরিচয় জানতে গেলেই তাঁর উপর চড়াও হয় ওই দুষ্কৃতীরা। মেরে মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে সুকান্তের। অন্যদিকে চিত্র সাংবাদিককেও ব্যাপক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতেও আক্রান্ত এবিপি আনন্দের সাংবাদিক প্রকাশ সিনহা। ক্যামেরা, বুম কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে কাঁথি পুএসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রহমানিয়া মাদ্রাসায়।

এদিকে এই ওয়ার্ডেই রহমানিয়া স্কুলে বিজেপি প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। সেই ছবি কভার করতে গেলে আক্রান্ত হন রিপাবলিক বাংলার প্রতিনিধি। উত্তর দমদমেও আক্রান্ত হয়েছেন রিপাবলিক বাংলার প্রতিনিধি অনুপম পাত্র। চারিদিকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের এভাবে আক্রান্ত হওয়ার ছবি উঠে এলেও এই ঘটনায় নির্বাক রাজ্য পুলিশ। কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফেও।

RELATED Articles