হঠাৎ শূন্যতা কখনও শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নয়, রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, বিশ্বাস আর দলীয় আনুগত্য—সবকিছু মিলিয়ে এক অদ্ভুত টানাপোড়েন তৈরি হয়। ঠিক এমনই এক পরিস্থিতির মধ্যে এখন দাঁড়িয়ে আছেন মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। বাবার প্রয়াণের পর সহানুভূতির বার্তা মিললেও, রাজনৈতিক মঞ্চে কি সেই সমর্থন অটুট থাকল?
প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায় ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। মুকুল রায়ের মৃত্যুর সময় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষযাত্রায় শ্মশান পর্যন্ত সঙ্গ দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মুহূর্তে দলীয় ঐক্যের ছবি স্পষ্ট ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির বাস্তবতা যেন অন্য প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
গতকাল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ২৯১ জনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। এই তালিকায় একাধিক নতুন মুখের পাশাপাশি পুরনো অনেক নামও জায়গা পেয়েছে। কিন্তু সেই তালিকায় নেই শুভ্রাংশু রায়ের নাম। অথচ তিনি মুকুল রায়-এর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করে দলেই থেকেছেন, এমনকি জোড়াফুলের প্রতীকেই দু’বার জয়লাভ করেছিলেন।
তালিকা প্রকাশের পর শুভ্রাংশুর প্রতিক্রিয়া অবশ্য সংযত। তাঁর কথায়, “মানুষ তো রক্ত-মাংস দিয়ে তৈরি, কোথাও খারাপ লাগেই। কিন্তু দলের ঊর্ধ্বে কিছু নয়। দল যাকে যোগ্য মনে করেছে, তাকেই প্রার্থী করেছে।” এই বক্তব্যে একদিকে যেমন দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত আঘাতের ইঙ্গিতও স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ Weather: সপ্তাহান্তে কালবৈশাখীর দাপট, বাড়বে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রাজ্যজুড়ে
রাজনীতির এই পালাবদলের সময়ে প্রশ্ন উঠছে—শুধু সহানুভূতির বার্তাই কি যথেষ্ট, নাকি বাস্তব সমর্থনই শেষ কথা? মুকুল রায়ের অনুপস্থিতিতে শুভ্রাংশুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে? দল কি সত্যিই তাঁর পাশে আছে, নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সমীকরণ? এই সিদ্ধান্ত কি শুধুই রাজনৈতিক কৌশল, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও অজানা কারণ? উত্তর দেবে সময়।





