বছরের পর বছর ধরে রাজ্য সরকারি কর্মীরা একটাই দাবি জানিয়ে আসছিলেন—বকেয়া মহার্ঘভাতা (Dearness Allowance)। তাঁদের মতে, এটা কোনও অনুদান নয়, বরং তাঁদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য। বহু কর্মী সেই দাবিতে আন্দোলন করেছেন, কেউ কেউ পথে বসেছেন, আবার কেউ কেউ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকার দাবি করে এসেছে, ডিএ কোনও ‘অধিকার’ নয়, বরং এটা রাজ্যের ‘ক্ষমতার উপর’ নির্ভর করে। ঠিক সেই জায়গা থেকেই তৈরি হয়েছে দ্বন্দ্ব।
বিগত কিছু বছরে দেখা গেছে, যে কোনও ইস্যু রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এলেই তা সাধারণ মানুষকে স্পর্শ করে—হোক না তা শিক্ষক নিয়োগ, চাকরিহারা তরুণদের ভবিষ্যৎ বা সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য বকেয়া ডিএ। মানুষের এই সব দাবির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তাঁদের স্বপ্ন, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। এই প্রেক্ষাপটেই ফের সামনে এল সেই পুরনো ‘ডিএ’ বিতর্ক। তবে এবার বিষয়টা শুধুমাত্র সরকারি নথির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—বরং তা পৌঁছে গিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক নির্দেশে জানিয়ে দেয়—রাজ্য সরকারকে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ অবিলম্বে মেটাতে হবে। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি সন্দীপ মেহেতার ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। এর আগে আদালত ৫০ শতাংশ বকেয়া দেওয়ার কথা বললেও, রাজ্যের তরফে অভিষেক মনু সিংভি আপত্তি তোলেন। আদালত সেই যুক্তি শোনার পরেই শেষ পর্যন্ত ২৫ শতাংশ ডিএ চার সপ্তাহের মধ্যে মিটিয়ে দিতে নির্দেশ দেয়। এখানেই শুরু হয়েছে নয়া চাপ।
এই রায়ের পরেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক্স-এ লেখেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রমাণ করল, ডিএ কোনও অনুদান নয়, এটা অধিকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দাবি করছিলেন ‘ডিএ অধিকার নয়’, সেই যুক্তির কাঠামোই ভেঙে দিল আদালত।” তিনি আরও বলেন, “আমি আশা করছি মুখ্যমন্ত্রী লাখ লাখ সরকারি কর্মীদের অধিকার লঙ্ঘনের দায় নিয়ে পদত্যাগ করবেন।” তিনি রাজ্য সরকারের এই পরাজয়কে সরকারি কর্মীদের “মিষ্টি জয়” বলে অভিহিত করেছেন।
আরও পড়ুনঃ Covid Wave Returns: ফের করোনা আতঙ্ক! হংকং-সিঙ্গাপুরে বাড়ছে সংক্রমণ, এশিয়াজুড়ে জারি সতর্কতা
এই রায়ের ফলে রাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক চাপ যেমন বাড়বে, তেমনই রাজনৈতিক অস্বস্তিও চরমে উঠবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। কারণ, ডিএ মামলায় রাজ্য সরকার বারবার বলেছিল, এত টাকা দিলে রাজ্যের আর্থিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। এখন সেই পরিস্থিতিতেই ২৫ শতাংশ বকেয়া দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। সরকারি কর্মীদের একটি বড় অংশ যেমন এই নির্দেশে খুশি, তেমনই রাজ্য সরকার এবার কীভাবে এই অর্থনৈতিক ভার সামলাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার এখন একযোগে চাপের মুখে—অর্থনীতিও, রাজনীতিও।





