মুড়িমুড়কির মতো নেতা নেওয়া ভুল! বিজেপির সিদ্ধান্তকে কাঠগড়ায় তুললেন শুভেন্দু?

রাজনৈতিক পালাবদলের খেলায় বাংলা বারবার সাক্ষী থেকেছে চমকপ্রদ ঘটনাগুলোর। একদা ঘাসফুলের ছত্রছায়ায় থাকা নেতারা মুহূর্তের মধ্যে গেরুয়া শিবিরে আশ্রয় নেন, আবার কেউ কেউ ফিরে আসেন পুরনো দলে। সাধারণ ভোটারদের মনেও প্রশ্ন জাগে— রাজনীতিতে আদর্শের মূল্য কতটুকু? যে নেতা গতকাল পর্যন্ত এক দলের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন, তিনিই পরদিন নতুন দলের পতাকা হাতে তুলে নেন। এই ঘটনা শুধু নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করে না, প্রভাব ফেলে জনগণের আস্থার ওপরও।

বিজেপির উত্থানের পর থেকে বাংলার রাজনীতিতে এই দলবদলের প্রবণতা নতুন রূপ নিয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবির রাজ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়ার পর একের পর এক তৃণমূল নেতা বিজেপিতে যোগ দেন। তখন এটাই মনে করা হচ্ছিল, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন হল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। সেই নির্বাচন বিজেপির প্রত্যাশিত ফল আনতে পারেনি, আর ভোট মিটতেই শুরু হয় ফের দলবদল। তখনই প্রশ্ন ওঠে— তৃণমূল ছেড়ে আসা এই নেতাদের দলে নেওয়া আদৌ ঠিক হয়েছিল কি? এবার সেই প্রশ্নের উত্তরই যেন দিলেন বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের বিজেপিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল, তা কার্যত স্বীকার করে নিলেন শুভেন্দু। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “তৃণমূল থেকে কাউকে নেওয়ার মালিক আমি নই। কিন্তু বিজেপির যে হিন্দু ভোট ব্যাঙ্ক, তারা চায় না তৃণমূলের অত্যাচারী নেতারা বিজেপিতে এসে নেতৃত্ব পাক। ২০২১ সালে মুড়িমুড়কির মতো তৃণমূল নেতাদের নেওয়া ভুল ছিল, এটা পাবলিক বলছে, আমি নই।” অর্থাৎ, নিজের ঘাড় থেকে পুরোপুরি দায় ঝেড়ে বিজেপির সিদ্ধান্তকে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে— বিজেপির অন্দরেই কি তবে অসন্তোষ বাড়ছে?

আরও পড়ুনঃ পুরুষদের তো ব্যথা হলে বিশ্রাম! তবে মেয়েদের ঋতুস্রাবের কষ্ট ‘ন্যাকামি’ কেন? বিস্ফোরক লগ্নজিতা

শুধু বক্তব্য রেখেই থামেননি শুভেন্দু, উদাহরণও টেনেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, “মুকুল রায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত, প্রবীর ঘোষাল— সবাই বিজেপিতে এসেছিলেন, কিন্তু পরে তৃণমূলে ফিরে গেছেন। জনগণ ঠিক বলেছিলেন তো? পার্টির সেটাই মেনে চলা উচিত।” অর্থাৎ, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর বিজেপিতে যে বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তার জন্য তৃণমূল থেকে আসা নেতাদেরই দায়ী করেছেন তিনি। যদিও দলবদলের এই খেলা নতুন কিছু নয়, তবে এবার বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নীতির বিরুদ্ধেই সুর চড়াতে দেখা গেল শুভেন্দুকে।

এদিকে, শুভেন্দুর এই মন্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই বিজেপিকে বড় ধাক্কা দিয়ে তৃণমূলে ফিরে গেছেন হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। হলদিয়া বরাবরই শুভেন্দুর গড় হিসেবে পরিচিত। ফলে, নিজের এলাকায় তৃণমূলের এই থাবা বসানোয় তিনি যে প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করে কি তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরাগভাজন হলেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই বক্তব্য তার ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইঙ্গিতবাহী। তিনি কি বিজেপির অন্দরের অসন্তোষকেই জনসমক্ষে তুলে ধরলেন? নাকি এটা তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য নেওয়া কৌশল? এর উত্তর দেবে আগামী কয়েকদিনের রাজনীতি।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles