ভোটের আগে ভোটার তালিকা (Voter List) নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। নাম বাদ পড়া, ভুল তথ্য বা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। সাধারণ মানুষের এই সমস্যাগুলিকে সামনে রেখেই এবার বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যা সরাসরি এই অভিযোগগুলির নিষ্পত্তি করতে পারে—কিন্তু ঠিক কীভাবে কাজ করবে এই নতুন প্রক্রিয়া, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় গঠন করা হয়েছে বিশেষ SIR ট্রাইবুনাল (Special Tribunal System)। মোট ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও বিচারপতিকে নিয়ে তৈরি হয়েছে এই কাঠামো। মূল লক্ষ্য একটাই—ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি। কারও নাম তালিকায় না ওঠা বা হঠাৎ বাদ পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলি এবার সরাসরি এই ট্রাইবুনালে চ্যালেঞ্জ করা যাবে।
আবেদন করার জন্য রাখা হয়েছে দু’টি পথ—অনলাইন ও অফলাইন। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ECI NET মোবাইল অ্যাপ বা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। অন্যদিকে, অফলাইনে আবেদন জানানো যাবে জেলাশাসক (DM), অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM) বা মহকুমাশাসকের (SDO) দফতরে। সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই এই আবেদন করা সম্ভব হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সব আপিল নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এই ট্রাইবুনাল আর থাকবে না—অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী ব্যবস্থা।
এই ট্রাইবুনালগুলিতে রয়েছেন একাধিক অভিজ্ঞ বিচারপতি ও বিচারক। তাঁদের মধ্যে আছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টি. এস. শিবজ্ঞানম, বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, রঞ্জিত কুমার বাগ, সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে। ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে—যেমন উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূম, মালদহ প্রভৃতি এলাকায় আলাদা আলাদা বিচারক দায়িত্বে থাকবেন।
আরও পড়ুনঃ West Bengal politics : ভবানীপুরের রাজনৈতিক লড়াইয়ে দ্বৈত ছবি – রেড রোডে নামাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কালীঘাটে পুজোয় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী!
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ট্রাইবুনাল এখন থেকেই কাজ শুরু করতে পারবে। ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের নজর এখন একটাই—এই নতুন ব্যবস্থা আদৌ কতটা স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা আনতে পারে। কারণ, শেষ পর্যন্ত ভোটের আগে সঠিক ভোটার তালিকা তৈরি হওয়াটাই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।





