“২২ লক্ষের মধ্যে ১০ লক্ষ নামই বাদ” দাবি মুখ্যমন্ত্রী! ‘রাষ্ট্রপতি শাসনের মধ্যে’ ভোট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন তিনি! ‘এটাই কি ভোটের প্রচারে নয়া কৌশল”– প্রশ্ন তুলছেন বঙ্গবাসীর একাংশ!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশ বর্তমানে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের ভোটার তালিকা এবং প্রশাসনিক বদলি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি তৃণমূলের ইস্তাহার প্রকাশের কর্মসূচিতে বক্তব্য দিয়ে বলেন, রাজ্যের ভোট প্রক্রিয়ায় ‘রাষ্ট্রপতি শাসনের’ মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কীভাবে রাজ্যের বিবেচনাধীন ভোটারদের তালিকা প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে এবং প্রশাসনিক বদলির ফলে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২২ লক্ষের বেশি নাম ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ নাম সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়তে পারে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও দুই দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে। সেখানে বিশেষ কিছু সম্প্রদায়ের মানুষের নাম অসাম্যভাবে বেশি বাদ পড়েছে। এ ছাড়া হিন্দু, মতুয়া এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষও এতে অন্তর্ভুক্ত।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ২৫ লক্ষ ৩৪ হাজারের তথ্য নিষ্পত্তি হয়েছে। কিন্তু তালিকা প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মমতা বলেন, ‘‘ভোটের আগে এই কাজ শেষ হবে কি না, তা কেউ নিশ্চিত নয়।’’ এছাড়া তিনি কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনের দিকে অভিযোগ তোলেন, একের পর এক আমলা ও পুলিশকর্তার বদলি করা হচ্ছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর বক্তব্য, বদলির জন্য যথাযথ কারণ থাকা দরকার, কিন্তু বর্তমানে তা নেই।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, কিছু কর্মকর্তা যাদের বদলি করা হয়েছে, তারা রাজ্যের কাজের অভিজ্ঞতা রাখেন না। রাজ্যের ইতিহাস, ভূগোল এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। মমতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এইভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা পরিচালিত হলে মানুষের দৈনন্দিন সুবিধা যেমন রেশন বা উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘যদি কোনো দুর্যোগ বা অব্যবস্থা ঘটে, তার জন্য দায়ী হবে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন।’’

আরও পড়ুনঃ খুশির ঈদেও অদৃশ্য আতঙ্ক! কেন হঠাৎ প্রকাশ্যে নামাজে নিষেধাজ্ঞা জারি মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে?

শেষে মমতা বিজেপি এবং কেন্দ্রকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, রাজ্যকে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর কথায়, উত্তরবঙ্গ বাদ দিয়ে বিহারের কিছু অংশ নিয়ে নতুন রাজ্য তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ভোটের পরে ডিলিমিটেশন, এনআরসি এবং সেন্সাসের মাধ্যমে মানুষদের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনাও চলছে। বিজেপি নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তবে মমতার তীব্র সুরে আশঙ্কা ও অভিযোগ স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যে নির্বাচন কার্যক্রম স্বচ্ছ ও ন্যায্যভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত।’’

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles