গতকালই শুভেন্দু’র দলবদলের জেরে সরকারের রোষানলে পড়ে দিঘা–শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ খুইয়েছেন শিশির অধিকারী। পর্ষদের নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে অখিল গিরিকে।
প্রসঙ্গত এই বিষয়ে পূর্ববর্তী কোনও নির্দেশিকা পাননি শিশির অধিকারী।বর্তমানে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় রয়েছেন কাঁথির তৃণমূল সাংসদ। শিশির অধিকারী। এই অপসারণের ব্যাপারে তাঁর মন্তব্য, ‘আমার কিছু জানা নেই। তাই প্রতিক্রিয়াও নেই।’ এই ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু পিতা। তাঁর কথায়,’আমার কাছে কোনও সরকারি কাগজ আসেনি। আমার কোনও অ্যাকশনও নেই। রিঅ্যাকশন নেই। অখিলবাবুকে করেছে, তাতে অসুবিধা কোথায়। এটা পৈতৃক সম্পত্তি নয়।’ তবে, সূত্র মারফত খবর, ঘনিষ্ঠমহলে শিশির অধিকারী ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন, ‘দলের কেউ খোঁজ নেয় না।’ মেদিনীপুরের রাজনীতিতে অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধ শিবিরের লোক বলেই জেলায় পরিচিত অখিল গিরি।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘ ২১ বছরের সম্পর্ক ত্যাগ করে শুভেন্দু অধিকারী গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানোর পর থেকেই রাজ্যের শাসকদলের কোপে পড়েছে অধিকারী পরিবার। একে একে ডানা ছাঁটা শুরু হয়েছে অধিকারী পরিবারের সদস্যদের। শুভেন্দু’র দলত্যাগের কিছুদিন পরই কাঁথি পুরসভার প্রশাসকের পদ থেকে সৌমেন্দু অধিকারীকে সরিয়ে দেয় রাজ্যের পুর দফতর।
১লা জানুয়ারি সৌমেন্দু দাদা শুভেন্দুর হাত ধরেই তৃণমূলের সঙ্গ ছেড়ে যোগ দেন বিজেপিতে। সেদিনই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ শিশির অধিকারী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব পাবে। জবাব দেবেন মেদিনীপুরের মানুষ। আমি যখন তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম, অবিভক্ত মেদিনীপুরে একটাও নির্বাচিত পদ ছিল না। আমি যোগ দেওয়ার পর দলে দলে সকলে যোগ দিল। আর আমি এখন হলাম মীরজাফর! আমি হলাম বেইমান।’
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে শিশিরের এই আক্রমনাত্মক বক্তব্যের পর এবার খোদ তাঁকেই পদহীন করল তৃণমূল। এইভাবে আর কতদিন তৃণমূলে থাকবেন শিশির, সেটা নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।
উল্লেখ্য, শিশির অধিকারীকে অপসারণের ব্যাপারে এদিন মুকুল রায় তৃণমূলকে ‘পারিবারিক রাজনৈতিক দল’ হিসেবে কটাক্ষ করে বলেন, ‘তাঁরা তাঁদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নিয়ে কোনও মন্তব্য না করাই ভাল।’ শিশির অধিকারী কি এবার বিজেপি–তে? মুকুলের জবাব, ‘উনি তো এসেইছেন। ওঁর ছেলে এসেছে, আবার কী! শিশিরের আসা সময়ের অপেক্ষা।





