এ যেন এক উলাটপুরাণ। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্র নন্দীগ্রামে বিজেপির সমর্থন নিয়ে পঞ্চায়েত বোর্ড গড়ল তৃণমূল। বিজেপির সমর্থনের জেরেই পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচিত হলেন তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ানের জামাই শেখ হাবিবুল। সেই ঘটনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এরই সঙ্গে উঠে এসেছে বিজেমূল তত্ত্বও। তৃণমূল ও বিজেপির আঁতাত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অন্যান্য বিরোধী দলগুলি।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
নন্দীগ্রামের মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন ১৮টি। ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, তৃণমূল পেয়েছিল ১২টি আসন, বিজেপি জিতেছিল ৬টি আসন। শুক্রবার বোর্ড গঠনের সময়ে তৃণমূলের তরফে হুইপ জারি করে বলা হয়, প্রধান হিসেবে শেখ শাহনওয়াজ খানকে নির্বাচিত করতে হবে।
এদিন শাহনওয়াজকে প্রধান পদে বসানোর দাবীতে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যদের একাংশ। তাদের বক্তব্য, “যিনি দলের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রধান হয়েছেন, তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। যাঁরা দলবিরোধী কাজ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে”।
শপথগ্রহণের পর দেখা যায়, দলের সেই হুইপ অমান্য করে শেখ সুফিয়ানের জামাই শেখ হাবিবুলকে প্রধান নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁকে সমর্থন করেছেন বিজেপির ৬ সদস্য-সহ তৃণমূলের ৬ সদস্য। ফলে সমস্ত হিসেব উল্টে যায়। তৃণমূল পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করে।
এদিন ব্লক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পরও পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না তৃণমূল সদস্যরা। তাদের বক্তব্য, ব্লক নেতৃত্ব থেকে তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ১৪ তারিখের মধ্যে বিষয়টির সমাধান করা হবে। তা নাহলে দলত্যাগের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা।
শেখ হাবিবুলের কী বক্তব্য?
বিজেপির সমর্থন নিয়ে তৃণমূলের বোর্ড গঠন করার মধ্যে আদৌ বিতর্কের কিছু নেই বলেই দাবী নির্বাচিত প্রধান শেখ হাবিবুলের। তাঁর কথায়, “আমি সকলের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। কে ভোট দিল, কোন দলের সমর্থক আমাকে ভোট দিল, সেটা বড় কথা নয়। ভোটের ফল ১২-৬। আমি প্রধান নির্বাচিত হয়েছি”।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে বিজেপির তরফে সুযোগ্য মাইতি কোনও বিতর্কে না ঢুকে সাফ জানালেন, “আমাদের সমর্থনেই উনি প্রধান হয়েছেন”।
এই বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের?
এঈ সমস্যার কথা মেনে নিয়েছেন নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গও। তিনি বলেন, “যাকে প্রধান করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তাঁর বিপক্ষে কয়েকজন সদস্য মত দিয়েছেন। একইসঙ্গে সব বিজেপি সদস্যরা নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে দলগত ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছেন। এদিন কর্মীদের দাবি-দাওয়া গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে এবং উর্ধ্বতন নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে”।





