একের পর এক স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের মৃত্যুর খবর সামনে আসছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর মৃত্যু নিয়ে এখন গোটা রাজ্য উত্তাল। এরই মধ্যে সামনে এল আরও এক ছাত্রীর মৃত্যুর খবর। স্কুল চলাকালীনই গলায় ফাঁ’স দিয়ে আ’ত্ম’হ’ত্যা করে ওই ছাত্রী।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার রেওয়ারির মাজরা শ্যরাজ গ্রামের একটি সরকারি স্কুলে। ১৭ বছরের ওই ছাত্রী দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ছিল বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, গতকাল, শুক্রবার দুপুর দুটো নাগাদ তাকে স্কুলেরই একটি ঘরে গলায় ফাঁ’স দিয়ে ঝুলতে দেখে অন্যান্য ছাত্রীরা। তারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের সঙ্গে সঙ্গে খবর দেয়। সকলে মিলে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কী অভিযোগ উঠেছে এই ঘটনায়?
এই ঘটনায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রী ওই শিক্ষকের কাছে পঠনপাঠনের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করার আবেদন জানায়। কিন্তু শিক্ষক তাতে আমল দেন নি। মৃত ছাত্রীর পরিবারের দাবী, এই নিয়ে ওই ছাত্রী নাকি বশ অনেকদিন ধরেই অবসাদে ভুগছিল। শুক্রবারও শিক্ষকের কাছে সেই একই দাবী জানালে শিক্ষক তাকে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। এরপরই স্কুলের একটি ফাঁকা ঘরে গিয়ে ওই কাণ্ড ঘটায় ওই ছাত্রী।
এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে বেধড়ক মারধরও করে বলে জানা গিয়েছে। মৃতা ছাত্রীর বাবা-মা এবং আত্মীয়দের দাবী, স্কুলের তরফে চিকিৎসকদের জানানো হয়, ওই ছাত্রী মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিল, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। স্কুলের কথার উপর ভিত্তি করে মৃগীরোগের চিকিৎসা শুরু করেন চিকিৎসকরা। পরিবারের দাবী, এমনটা না হলে তাদের মেয়েকে বাঁচানো যেত।
ওই অভিযুক্ত শিক্ষক এদিন হাসপাতালে গেলে মৃতা ছাত্রীর বোন অভিযোগ করে যে ওই শিক্ষক নাকি মৃত ছাত্রীর দেহের কাছ থেকে পাওয়া সুইসাইড নোট ছিঁড়ে ফেলেছেন। শিক্ষককে মারধর শুরু করে ক্ষিপ্ত জনতা। পুলিশ এসে উদ্ধার করে শিক্ষককে। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তাদের আশ্বাস, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





