শহরের রাজনৈতিক আবহাওয়া যত গরম হচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি। কখনও অভিযানের খবর, কখনও পাল্টা অভিযোগ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ঠিক এই আবহেই হঠাৎ করে আবার লাইভে এসে নতুন করে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢাললেন ‘সোনা পাপ্পু’ নামে পরিচিত বিশ্বজিৎ পোদ্দার। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থার খোঁজ সত্ত্বেও তাঁর হদিস না মিললেও, তিনি নিজেই প্রকাশ্যে এসে নানা দাবি তুলে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুললেন।
পুলিশ ও ইডি তাঁর খোঁজ চালালেও এখনও পর্যন্ত তাঁকে ধরতে পারেনি বলে জানা গিয়েছে। এমনকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কসবা থানার ওসিকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কিন্তু সেই সময়েই একেবারে উল্টো ছবি একটি গাড়ির ভিতরে বসে লাইভে এসে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পাপ্পু। তাঁর দাবি, তিনি ইচ্ছা করে লুকিয়ে নেই, বরং পরিস্থিতির চাপে পড়েই সামাজিক মাধ্যমে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য।
লাইভে এসে সরাসরি এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান পাপ্পু। তাঁর অভিযোগ, ওই নেতার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ‘দুষ্কৃতী’ বলা হচ্ছে না, বরং রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন, ওই নেতার সঙ্গে এক শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের যোগ রয়েছে এবং সেই কারণেই তাঁকে প্রার্থী করার চেষ্টা চলছে। এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।
এরপরেই তিনি নিজের বাড়িতে হওয়া ইডির অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, তল্লাশির সময় তাঁর পরিবারকে অমানবিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। স্ত্রীকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বৃদ্ধ বাবাকেও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি, তাঁর অভিযোগ, অভিযানের সময় কোনও প্রমাণ না পেয়ে শেষমেশ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
সবশেষে লাইভে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, যদি কোনও থানায় তাঁর নামে একটি তোলাবাজির অভিযোগও প্রমাণিত হয়, তবে তিনি কঠোর শাস্তি মেনে নেবেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, পুরো ঘটনাই পরিকল্পিত এবং তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে আসল সত্যিটা কী? পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপই এখন নির্ধারণ করবে এই রহস্যের পরিণতি।





