সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল টিকিট দেয়নি প্রাক্তন বিধায়ক সোনালী গুহ’কে। আর সেই কারণেই সর্বসমক্ষে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সোনালী। কিন্তু তার পরেও দলের তরফে কোনও বার্তা আসেনি। ভেঙে পড়ে এই প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছিলেন, মমতা তাঁকে ‘ঘরের লোক’ মনে করতেন। তিনিই যে এমন করতে পারেন, বিশ্বাসই করতে পারছেন না তিনি। একনিষ্ঠ ভাবে দলের জন্য কাজ করার এমন ‘পুরস্কার’ জুটবে, তাও সেদিন কল্পনা করতেও পারেননি বলে জানিয়েছিলেন সোনালী গুহ।
আর তারপর দলবদলের জোয়ারে রাত পোহাতেই বিজেপিতে চলে যান তিনি। কিন্তু বিজেপির তরফেও পাননি প্রার্থীপদ। ২১শের বিধানসভা নির্বাচনে বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের কাছে কার্যত ভরাডুবি হয় বিজেপির। মমতা ঝড়ে একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে যায় মোদী ম্যাজিক।
তৃতীয়বারের মতো বঙ্গের মসনদে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপরই তিনি জানান, দলত্যাগীদের জন্য তাঁর দরজা খোলা। আর এবার সেই দরজা দিয়েই এক এক করে ফিরতে চলেছেন দলবদলুরা।
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়া বাঁচবো না, আমার ভুল হয়ে গেছে” বলে ফের ভগ্ন হৃদয় নিয়ে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের পথে সোনালী গুহ।
এদিন টুইট করে প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী তথা বর্তমান বিজেপি নেত্রী লিখেছেন, “সম্মানীয়া দিদি ,আমার প্রনাম নেবেন , আমি সােনালী গুহ , অত্যন্ত ভগ্ন হৃদয়ে বলছি যে , আমি আবেগপূর্ণ হয়ে চরম অভিমানে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দলে গিয়ে ছিলাম যেটা ছিল আমার চরম ভুল সিদ্ধান্তু কিন্তু সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি । মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচতে পারে না , তেমনই আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না । দিদি আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী , দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন । আপনি ক্ষমা না করলে আমি বাঁচব না । আপনার আঁচলের তলে আমাকে টেনে নিয়ে , বাকি জীবনটা আপনার স্নেহতলে থাকার সুযােগ করে দিন।”
প্রিয় দিদি @MamataOfficial @AITCofficial pic.twitter.com/ZOtiSvvUSO
— SONALI GUHA (BOSE) (@SONALIGUHABOSE) May 22, 2021
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সিপিএমের বিরুদ্ধে তৃণমূলের আন্দোলন পর্বে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ছায়াসঙ্গী’ ছিলেন সোনালী গুহ। বাংলায় ‘পরিবর্তন’-এর পর মমতা তাঁকে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার পদেও বসিয়েছিলেন। বিরোধীদলে থাকার সময় সোনালী বিধানসভায় তৃনমূলের ‘হল্লাব্রিগেড’-এর অন্যতম সদস্য ছিলেন। কিন্তু বড্ডই বিতর্কিত ছিলেন এই তৃণমূল নেত্রী। হাওড়ার একটি বহুতলে গিয়ে তাঁর সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও সবার জানা। সতর্ক করেছিলেন মমতা। ২০১৬ সালেও তাঁর ওপর ভরসা করে রাজ্য নেতৃত্ব। সাতগাছিয়া থেকেই টিকিট দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। দাপুটে সোনালি জিতেওছিলেন। কিন্তু তাঁর অত্যাধিক মত প্রকাশ, স্বাধীনচেতা মন্তব্য দল এবং নেত্রীর সঙ্গে ক্রমশ দূরত্ব বাড়িয়েছিল তাঁর।
দ্বিতীয়বার বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর মমতা সোনালীকে আর কোনও সরকারি পদ দেননি। ফলে তিনি শুধুই একজন বিধায়ক হয়ে ছিলেন। ২০২১শের হাই ভোল্টেজ নির্বাচনে বয়স্ক, বিতর্কিত কোনও ব্যক্তিত্বকেই পার্থী পদ দিতে রাজি হননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং জোর দিয়েছিলেন অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যে। আর তাই প্রার্থী তালিকায় ঠাঁই হয়নি সোনালী’র। তারপরই রাতারাতি কেঁদেকেটে দলত্যাগ। কিন্তু বিজেপিতে গিয়েও আস্থা অর্জনে অক্ষম হন তিনি। সেখানেও মেলেনি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ। আর ভোটের পর থেকে আবারও তৃণমূলের দুয়ারে ঘুরছেন এই তৃণমূল ত্যাগী! এখন দেখার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফের জনগণের সেবা করার সুযোগ করে দেন কিনা!





