শিক্ষাক্ষেত্রে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। দীর্ঘদিন ধরে চলা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির রেশ এখনও প্রবল। এই পরিস্থিতিতে একের পর এক মামলা আর আদালতের নির্দেশে বারবার বদল হচ্ছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) পদক্ষেপ। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে ফের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়, যেখানে প্রশ্ন ওঠে অযোগ্য প্রার্থীদের ফের নিয়োগে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে।
সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে হয় মামলার শুনানি। সেখানে রাজ্য ও এসএসসি-র তরফে সওয়াল করা হয় চিহ্নিত অযোগ্যদের পক্ষেই। এসএসসি-র পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি ছিল, সুপ্রিম কোর্ট কোথাও বলেনি যে অযোগ্য প্রার্থীরা একেবারে বাদ পড়বে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে। বরং তাঁর মতে, যদি চিহ্নিত অযোগ্যরা বসতে না পারে, তবে ২০১৬ সালের নিয়োগে যারা সফল হয়নি, তারাও তো বসতে পারবে না।
এই যুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি সরাসরি বলেন, “কমিশনের কাছ থেকে এই ধরনের ব্যাখ্যা আশা করা যায় না।” তিনি আরও বলেন, এতবড় দুর্নীতির অভিযোগ যেখানে রয়েছে, সেখানে চিহ্নিত অযোগ্যদের পক্ষ নেওয়া মানে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা। সুপ্রিম কোর্ট যেখানে টাকা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে, সেখানে একই অযোগ্যদের ফের সুযোগ দেওয়া কি ন্যায্য?
যোগ্য প্রার্থীদের পক্ষে সওয়াল করা আইনজীবীরা যেমন বিকাশ ভট্টাচার্য এবং অনিন্দ্য মিত্র স্পষ্ট বলেন, ৩০ মে’র এসএসসি-র জারি করা বিজ্ঞপ্তি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী। বিজ্ঞপ্তিতে অযোগ্যদের স্পষ্টভাবে বাদ দেওয়ার কোনও উল্লেখ নেই, এমনকি অতিরিক্ত ১০ নম্বরও দেওয়া হয়েছে পুরনো চাকরিপ্রাপ্তদের — যা প্রশ্নের মুখে। তাঁদের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী চিহ্নিত অযোগ্যদের কোনওভাবেই ফের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
আরও পড়ুনঃ Rajanya Halder: “যিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেন না, তিনি আর কাকে রক্ষা করবেন?” — রাজন্যার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন জুঁই বিশ্বাস!
শেষমেশ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট নির্দেশ দেন, অযোগ্যদের সম্পূর্ণভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিয়েই এগোতে হবে SSC-কে। যত দ্রুত সম্ভব, সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বলেন, “তারা কতবার সাজা পাবে?”, বিচারপতির জবাব ছিল সাফ — “তারা প্রতারণা করে চাকরি পেয়েছে, তাই তারা বাদ পড়বে।” ফলে এবার নতুন করে বিজ্ঞপ্তি বদলে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোতেই হবে এসএসসি-কে।





