West Bengal : “আমরা তিন বছর টেট পাশ করে বসে রয়েছি, বাবা-মা না খেয়েই মরে গেল”— ক্ষোভে চাকরিপ্রার্থীরা!

রাজ্যের নিয়োগ কান্ড আবারও উত্তাল করে তুলল রাজপথ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও চাকরির স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় আন্দোলনে শামিল হলেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। তাঁদের দাবি—সরকার দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করুক। শান্তিপূর্ণ জমায়েত দিয়ে শুরু হলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা রূপ নেয় ধুন্ধুমার পরিস্থিতিতে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই করুণাময়ী চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণরা। তাঁদের দাবি, প্রাথমিক স্তরে অন্তত ৫০ হাজার নিয়োগপত্র অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে। পর্ষদ অফিসের দিকে মিছিল করে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল চাকরিপ্রার্থীদের। কিন্তু মেট্রো স্টেশনের বাইরে থেকেই শুরু হয় পুলিশি বাধা। প্রথমে ধাক্কাধাক্কি, তারপর আচমকাই শুরু হয় ধরপাকড়।

আন্দোলনকারীদের রাস্তায় দাঁড়াতেই দেওয়া হয় সতর্কবার্তা। কিন্তু চাকরিপ্রার্থীরা অবস্থান নিলে পুলিশ তাঁদের চ্যাংদোলা করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। সেই সময় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ছড়ায়। অনেক চাকরিপ্রার্থীর জামা ছিঁড়ে যায়, কেউ কেউ রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন অসুস্থ হয়ে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করছে পুলিশ। এক চাকরিপ্রার্থীর ক্ষোভ—“আমরা তিন বছর ধরে অপেক্ষা করছি, অথচ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। আমাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার কেন?”

করুণাময়ীর বাইরে পুলিশ বারবার ভিড় সরানোর চেষ্টা করে। কিন্তু চাকরিপ্রার্থীরা সাফ জানিয়ে দেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে তাঁরা রাস্তা ছাড়বেন না। তাঁদের অভিযোগ, এতগুলো বছর কেটে গেলেও ইন্টারভিউয়ের নোটিস প্রকাশ করা হয়নি। এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, “রাজ্যটা ভাতার রাজ্যে পরিণত হচ্ছে। আমরা কি জঙ্গি, যে এভাবে টেনে হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তুলছে?” তাঁদের কথায় স্পষ্ট হতাশা—যেখানে ওবিসি সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর পর দ্রুত নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, এখন সরকার ‘শীতঘুমে’।

আরও পড়ুনঃ Voter List : ২০১০-এ মৃত্যু, ২০২৫-এ ভোটার তালিকায় নাম জ্বলজ্বল! ব্রাত্য বসু-র বাবাকে ঘিরে বিজেপির চাঞ্চল্যকর দাবি!

দুপুরের দিকে কিছুটা পরিস্থিতি আয়ত্তে আনলেও ঘণ্টা খানেক পর ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে করুণাময়ী। অন্য দিক থেকেও মিছিল যোগ দেওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের ভিড় আরও বেড়ে যায়। বিকেলের পর আবারও পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি হয়। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেন—নিয়োগ না হলে রাজপথ ছাড়া হবে না। স্পষ্ট বার্তা—তাঁরা আর অপেক্ষা নয়, অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু চায়। বিধানসভা ভোটের আগে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলে হুঁশিয়ারি চাকরিপ্রার্থীদের।

RELATED Articles