রাজ্যের রাজনীতিতে ফের নতুন বিতর্কের সুর। ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে নানা অভিযোগ শোনা গেলেও, এবার নাম উঠে এসেছে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু-র পরিবারের। মৃত মানুষের নাম ভোটার তালিকায় থেকে যাওয়ার ঘটনা যে একেবারে অস্বাভাবিক নয়, তা অনেক সময়ই সামনে এসেছে। কিন্তু এ বার সেই তালিকায় নাম ঘিরেই উঠল এক অপ্রত্যাশিত অভিযোগ, যা রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বিজেপি নেতা পীযুষ কানোরিয়ার দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর প্রয়াত বাবা বিষ্ণু বসু-র নাম এখনও জ্বলজ্বল করছে ভোটার তালিকায়। তাঁর অভিযোগ, বিষ্ণু বসু ২০১০ সালে প্রয়াত হলেও, সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২৫ সালের ভোটার লিস্টে সেই নাম এখনো টিকে রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কানোরিয়া বিস্তারিত তথ্যও তুলে ধরেন অভিযোগের সঙ্গে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের ৬২ নম্বর পাটের কালিন্দী প্লট অনার্স লাইব্রেরি হল পোলিং স্টেশনের ভোটার তালিকায় ৯০ নম্বর সিরিয়ালে বিষ্ণু বসুর নাম রয়েছে। এমনকি ভোটার কার্ড নম্বরও প্রকাশ করেন তিনি— WB/20/139/144487। সব দেখিয়েই বিজেপি নেতা প্রশ্ন তোলেন, “একজন মৃত ব্যক্তির নাম যদি এত বছর পরেও থেকে যায়, তাহলে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে কীভাবে ভরসা করা যাবে?”
এই ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, এ ধরনের ঘটনার দায় নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি শাসক দলেরও। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে বহু মৃত মানুষের নাম এখনও ভোটার তালিকায় থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, বিরোধীরা অযথাই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দিচ্ছে। কানোরিয়ার দাবি অনুযায়ী, তিনি শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাবেন।
আরও পড়ুনঃ Anandapur Missing Case : তরুণীকে খুঁজতে নেমেছিল ডুবুরি, শেষমেশ ভেসে উঠল যুবকের লা*শ! আনন্দপুর কাণ্ডে নতুন মোড়!
ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য এটাই প্রথম নয়। নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি ২০০২ সালের ভোটার লিস্ট অনলাইনে প্রকাশ করায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি ও ডায়মন্ড হারবারেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত মানুষের নাম ভোটার তালিকায় থেকে যাওয়া প্রশাসনিক গাফিলতি ছাড়া কিছুই নয়। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন একটাই—শিক্ষামন্ত্রীর পরিবারের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিছক ভুল, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে? উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।





