রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চাপা ক্ষোভ ও হতাশা কাজ করছে বকেয়া ডিএ (DA) না-পাওয়ার কারণে। একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের ‘অর্থাভাব’-এর যুক্তি—এই টানাপোড়েনের মধ্যেই ফের আশার আলো দেখছেন কর্মচারীরা। কারণ, এবার সুপ্রিম কোর্টে উঠছে বহুল প্রতীক্ষিত ডিএ মামলা। আর সেই শুনানিকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের সংগঠনের তরফে তোলা হচ্ছে নতুন প্রশ্ন—যেখানে পুজোর অনুদান ও ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, সেখানে ডিএ মেটাতে রাজ্য সরকারের এত গড়িমসি কেন?
কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের দাবি, শুধুমাত্র গত দু’বছরের পুজোর অনুদান এবং ‘আমাদের পাড়া’ প্রকল্পে রাজ্যের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। অথচ ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটাতে খরচ হত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এই বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের “টাকা নেই” যুক্তি যে ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে, তা স্পষ্ট বলছেন তিনি। তাই এবার শীর্ষ আদালতের সামনে এই আর্থিক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে নতুনভাবে সওয়াল করতে চলেছেন তাঁদের আইনজীবীরা।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসেই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় পড়া কর্মীদের বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ আগামী ২৭ জুনের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। এই পদক্ষেপেই ক্ষুব্ধ একাংশ কর্মচারী। তাঁদের মতে, ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে, যাতে ডিএ দেওয়া এড়িয়ে যাওয়া যায়। এমনকি আদালতে ‘ভুল তথ্য’ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে কর্মচারী সংগঠন।
আগামী ৪ অগস্ট, সোমবার, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও প্রশান্ত কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চের সামনে উঠছে এই মামলার শুনানি। কনফেডারেশনের দাবি, এবার শীর্ষ আদালতের সামনে প্রমাণ-সহ হাজির হবেন তাঁদের আইনজীবীরা। সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হয়েছে ১৩ নম্বরে। উল্লেখযোগ্যভাবে বলা হয়েছে, এটি ‘টপ অফ দ্য লিস্ট অ্যাডমিশন’। অর্থাৎ মামলাটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে। ফলে এদিনই মামলার কোনও রায় বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশাবাদী কর্মীরা।
আরও পড়ুনঃ Astrology: আসছে জন্মাষ্টমী! শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদে এই ৩ রাশির ভাগ্যে হতে চলেছে টাকার বৃষ্টি!
বর্তমানে যে পরিমাণে সরকারি খাতে ব্যয় করা হচ্ছে, সেই খরচের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে কর্মচারী সংগঠন। আর সেই প্রশ্নই সুপ্রিম কোর্টে পরিণত হতে পারে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘মহা অস্ত্রে’। যদি আদালত রাজ্যের ব্যয় সংক্রান্ত যুক্তি মান্যতা না দেয় এবং কর্মীদের দাবিকে সমর্থন করে, তাহলে শুধু ২৫ শতাংশ নয়, ভবিষ্যতে ১০০ শতাংশ বকেয়া ডিএ পাওয়ার রাস্তাও খুলে যেতে পারে। এখন শুধু অপেক্ষা, ৪ অগস্ট কী নির্দেশ দেয় দেশের শীর্ষ আদালত।





