কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বরাবরই বঞ্চনার অভিযোগ করে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর প্রতিবাদে ধর্নাতেও বসেছিলেন তিনি। এরপরই বাংলাকে ১২০০ কোটিরও বেশি টাকা পাঠাল কেন্দ্র সরকার। জানা গিয়েছে, মিড ডে মিল ও সমগ্র শিক্ষা মিশনের জন্য পাঠানো হয়েছে এই টাকা।
নানান প্রকল্পে টাকা আটকে রাখছে কেন্দ্র সরকার, এমন অভিযোগ বারবার তোলা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। মিড ডে মিলের টাকাও আটকে রেখেছে কেন্দ্র, এমন অভিযোগও করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই খাতে এল টাকা। মিড ডে মিলের জন্য ৬৩৮ কোটি ও সমগ্র শিক্ষা মিশন খাতে ৫৭৬ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। যদিও এই টাকা আসার কথাই ছিল, তবে মমতার ধর্নার পর এই টাকা আসাটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।
রাজ্যে মিড ডে মিল নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। অন্যান্য প্রকল্প-সহ স্কুলে স্কুলে ঘুরে মিড ডে মিলের মান পরীক্ষা করে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। এরপরই এই খাতে বকেয়া ৬৩৮ কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বলে রাখি, এখন মিড ডে মিলের অডিট চলছে। নানান প্রকল্প খতিয়ে দেখার জন্য রাজ্যে আরও ১০টি দল আসছে কেন্দ্রের।
তবে শুধু মিড ডে মিলই নয়, ১০০ দিনের কাজ ও আরও নানান প্রকল্পের টাকা নিয়ে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯ ও ৩০ মার্চ ধর্নায় বসেছিলেন তিনি। আশা রেখেছিলেন, ওই দুদিনের মধ্যে কেন্দ্রের তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি তেমনটা জানিয়েওছিলেন। কিন্তু কোনও যোগাযোগ করা হয়নি আর টাকা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়নি। তবে এবার মিড ডে মিলের খাতে এল টাকা।
রাজ্য়কে বকেয়া মেটানো প্রসঙ্গে তৃণমূলের সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, “রাজ্যের নানান প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখেও কোনও খুঁত পায়নি কেন্দ্র। তাই টাকা পাঠাতে বাধ্য হল তারা। বঙ্গ বিজেপি যে মিথ্যা অভিয়োগ করছে, তা প্রমাণিত। এর ফল তারা ভোটবাক্সে পাবে”।
এর পালটা দেন বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “এই রাজ্য পুরোটাই কেন্দ্রের অনুদান নির্ভর। রাজ্য রাজস্ব থেকে আয় করতে ব্যর্থ। কেন্দ্রের পাওনা মেটানোর সঙ্গে এর সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির মুখ থুবড়ে পড়ার কোনও সম্পর্ক নেই”।





