এর আগে তাঁর কপালে জুটেছিল ‘বাঘ’ তকমা। আর এবার তিনি হলেন ‘নীলকণ্ঠ শিব’। নাম না করেই গরু পাচার কাণ্ডে ধৃত অনুব্রত মণ্ডলকে শিবের সঙ্গে তুলনা করলেন বীরভূমের জেলা তৃণমূল সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায়। তাঁর এই মন্তব্যে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বিজেপির দাবী, এভাবে সংস্কৃতির অপমান করছেন তৃণমূল নেতা।
গতকাল, শুক্রবার এক দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন মলয় মুখোপাধ্যায়। সেই কর্মসূচি থেকেই তিনি বলেন, “যখন সমুদ্রমন্থন হয়েছিল, তখন অমৃতের সঙ্গে গরল উঠেছিল। আমরা জানি, অমৃত দেবতারা ভাগ করে খেয়ে নিলেও, গরল পান করার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। সবাই অমৃতটাই দেখছেন। কিন্তু আজ যিনি গরল পান করতে পারতেন, রাজনীতির প্যাঁচপয়জারে তাঁকেই দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে”।
যদিও মলয় মুখোপাধ্যায় সরাসরি কারোর নাম উল্লেখ করেন নি। তবে তিনি যে অনুব্রত মণ্ডলের সম্পর্কেই একথা বলেছেন, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই রাজনৈতিক মহলের। এই বিষয় নিয়ে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। তাদের কথায়, একজন অভিযুক্তকে ভগবান শিবের সঙ্গে তুলনা করে সংস্কৃতির অপমান করেছেন তৃণমূল নেতা।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “কেষ্ট সেই গরল পান করে ৫-৭০০ কোটি টাকা রোজগার করে নিল না হয় বুঝলাম। কিন্তু অমৃতটা কে খেল সেটাও তো বলতে হবে। গরল পান করেই যদি ৫০০ ৭০০ কোটি টাকা হয়ে যায়, তাহলে কয়েক হাজার কোটি টাকা কে পেল”?
অন্যদিকে, নিজের এই মন্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমি বোঝাতে চেয়েছি, একটা সংগঠনে অনেক রকমের লোক আছে। কেউ চিৎকার করবে, কেউ চেঁচামেচি করবে, কারও দলীয় নীতি পছন্দ হবে না। কেউ কোনও নেতার বিরুদ্ধে কথা বলবে, কেউ ঠিকমতো জায়গা পাচ্ছে না বলে চিৎকার করবে। এ সমস্ত নিয়েই তো সংগঠন। তাদের সেই ক্ষোভ তা হজম করার ক্ষমতা অনুব্রত মণ্ডলের যথেষ্ট পরিমাণে ছিল। তিনি অন্য়ান্য বিক্ষুব্ধ নেতাদের কথা শুনতেন, সকলকে আশ্বস্ত করতেন, তাদের জ্বালা যন্ত্রণা নিজে হজম করতেন, গায়ে হাত বুলিয়ে বুঝিয়ে স্বপদে বহাল রেখে দলটাকে ঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতেন”।





