ইমেল করেছে ছাত্রসমাজ, তাও নবান্ন অভিযানের অনুমতি দিল না পুলিশ, কী কারণ? কেন রোখা হচ্ছে প্রতিবাদকে?

নবান্ন অভিযান নিয়ে ধন্ধ যেন শেষই হচ্ছে না। আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে আগামীকাল ২৭ আগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজের তরফে। তবে সেই অভিযানকে ‘বেআইনি’ বলে দাগা হয় রাজ্য পুলিশের তরফে। আর এবার এই অভিযানের অনুমতিও দিল না পুলিশ।

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে যখন চারিদিক আন্দোলনমুখর, সেই সময় দাঁড়িয়ে নবান্ন চলো কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয় ছাত্রসমাজের তরফে। তবে আজ, সোমবার রাজ্য পুলিশের তরফে বলা হয়, এই অভিযান বেআইনি কারণ প্রথমত, কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের তরফে এই অভিযানের ডাক দেওয়া হয়নি। আর দ্বিতীয়ত, নিয়ম মেনে পুলিশের কাছে এই অভিযান নিয়ে কোনও আবেদন জানানো হয়নি।

পুলিশের এই মন্তব্যের পর ছাত্রসমাজ ও যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের তরফে দুটি ইমেল করা হয় রাজ্য পুলিশকে। এরপর এদিন সন্ধ্যায় ফের সাংবাদিক বৈঠক করে এডিজি (দক্ষিণ) সুপ্রতিম সরকার বলেন, “আমাদের কাছে ছাত্র সমাজের থেকে দুটো ই-মেল এসেছে। কোনও অনুমতি চেয়ে তারা ইমেল করেনি। শুধু মাত্র তারা এই তথ্য জানিয়েছে যে তারা নবান্ন অভিযান করতে চায়”। তিনি আরও জানান, “আগেও বলেছি যে মঙ্গলবার ইউজিসি-নেট পরীক্ষা রয়েছে। তাই আমরা অনুমতি দিচ্ছি না। আগামিকালের অভিযান তাই বেআইনি ও অবৈধ”। 

সুপ্রতিম সরকারের কথায়, “আমরা জানিয়েছি, আগামিকাল বাদ দিয়ে যেকোনও দিন সংরক্ষিত এলাকা ছাড়া যে কোনও জায়গায় কর্মসূচি আইন মেনে করলে পুলিশ অনুমতি দেবে”। 

শাসকদল তৃণমূলের দাবী, এই নবান্ন অভিযানে রাজনৈতিক মদত রয়েছে। এদিন সকালে রাজ্য পুলিশের তরফে করা সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, যে ছাত্রসমাজের তরফে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে, তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক। পুলিশের তরফে জানানো হয়, ছাত্রনেতাদের মধ্যে একজন গতকাল কলকাতার এক অভিজাত হোটেলে নাকি কোনও এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে দেখা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ ৫১ ফুটের সেমিনার রুম, ৪০ ফুট কর্ডন করা ছিল, তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়া সেমিনার রুমের ভিড়ের ভিডিও ভাইরাল হতেই সাফাই দিল পুলিশ 

এদিকে আজ, সোমবার ফের প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করেন ছাত্রনেতারা। তারা স্পষ্ট জানান, কোনও রাজনৈতিক মদত নেই এই নবান্ন অভিযানে। তারা এও জানান যে তারা চান না এই অভিযানে কোনও রাজনৈতিক নেতা যোগ দিন।

RELATED Articles