সাপের ছোবল খেয়েও ক্ষুণ্ণ হয়নি মনের জোর, হাসপাতালের বেডে বসেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল পড়ুয়া

রাতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থাতেই পায়ে সাপে কামড়েছিল। তীব্র যন্ত্রণায় কঁকিয়ে ওঠে সে। সকাল হতেই তাকে ভর্তি করা হাসপাতালে। সেই হাসপাতালের বেডে বসেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল পড়ুয়া। পড়ুয়ার এমন অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কুর্ণিশ জানাল স্কুল।

কী ঘটেছিল ঘটনাটি?

ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের বেলেণ্ডা গ্রামে। সেই গ্রামের বাসিন্দা অর্জুন মাজি। ভাতার মাধব পাবলিক হাই স্কুলের ছাত্র অর্জুন। এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে সে। ভাতারের বড়বেলুন হাই স্কুলে পরীক্ষাকেন্দ্র ওই পড়ুয়ার। দু’টি পরীক্ষা হয়ে গিয়েছিল। সোমবারের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাতে শুতে গিয়েছিল পড়ুয়া। তখনই ঘটে বিপত্তি।

অর্জুনের মায়ের কথায়, রবিবার মধ্যরাতেই অর্জুনের পায়ে কিছু একটা কামড়েছিল। সকাল হতেই তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয় তার। তখনও বোঝা যায়নি যে সাপে কামড়েছে অর্জুনকে। অসুস্থ হয়ে পড়লে অর্জুনকে ভাতার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন।

কিন্তু এদিকে যে মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষা দিতে চায় অর্জুন। এরপরই ভাতার মাধব পাবলিক হাই স্কুলের কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় অর্জুনের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে। তখন তড়িঘড়ি হাসপাতালেই অর্জুনের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালের বেডে বসেই পরীক্ষা দেয় অর্জুন। চিকিৎসকরা জানান, অর্জুনের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।

কী জানাচ্ছেন পড়ুয়ার বাবা?

উৎপল মাজি ও মনিদেবীর দুই ছেলের মধ্যে বড় অর্জুন। উৎপলবাবু প্রান্তিক কৃষক। তিনি জানান, সকালে তিনি মাঠে কাজে চলে যান। সাইকেলেই পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার কথা। তাঁর কথায়, “আমি মাঠে কাজে চলে যাওয়ার পর পাড়ার লোকজন খবর দেন অর্জুন অসুস্থ। রবিবার মাঝরাতে ছেলের পায়ে কিছু কামড়ে দেয়। সকালে স্নান করতে যাওয়ার সময়েই অসুস্থতা বোধ করে। বাড়িতে এসে দেখি ওর পায়ে সাপে কামড়ানোর মতো দাগ রয়েছে। তখনই হাসপাতালে নিয়ে আসি। তখন প্রায় ন’টা বেজে গিয়েছে”।

উৎপলবাবু বলেন, “যেহেতু সাপে কাটার বিষয় তাই আমরা সবাই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু অর্জুনই পরীক্ষায় বসার ইচ্ছাপ্রকাশ করে। ছেলেকে সাহস হারাতে দেখিনি। পরীক্ষা দিতে পেরেছে তাই আমরা সবাই খুশি।

এই বিষয়ে ভাতার মাধব পাবলিক হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সচ্চিদানন্দ হাঁসদা বলেন, “এক ছাত্র সাপে কাটায় অসুস্থ হয়ে যায়। পরেও পরীক্ষায় বসার জন্য জোর করছিল। এটা নিঃসন্দেহে দৃষ্টান্ত ও প্রশংসার যোগ্য”।

RELATED Articles