পৃথক রান্নাঘর, আলাদা রাঁধুনি, মিড ডে মিলে বিভেদের ছবি—তা-ও আবার প্রাথমিক স্কুলে! শিশুমনে যখন বন্ধুত্বের পাঠ শেখানোর কথা, তখনই গাঁথা হচ্ছিল সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের বীজ। ঘটনাস্থল পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার এক সরকারি বিদ্যালয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন।
পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের নসরতপুর পঞ্চায়েতের কিশোরগঞ্জ মনমোহনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিন্দু ও মুসলিম পড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিলের খাবার প্রস্তুত হত আলাদা রান্নাঘরে। হিন্দু রাঁধুনি হিন্দু পড়ুয়াদের জন্য, মুসলিম রাঁধুনি মুসলিম পড়ুয়াদের জন্য রান্না করতেন। শুধু রাঁধুনি নয়, রান্নার পাত্র, হাতা, খুন্তি, এমনকি চুলাও ছিল আলাদা। পড়ুয়ারা একসঙ্গে বসে খেলেও, খাবার ছিল ধর্মভিত্তিক আলাদা পাতে।
এই ব্যবস্থা নিয়ে স্কুলের রাঁধুনীরা জানিয়েছেন, তাঁদের উপর নির্দেশ ছিল কীভাবে রান্না করতে হবে, তা তাঁরা শুধু অনুসরণ করতেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস ঘোষ জানান, ‘‘এই বিভেদমূলক ব্যবস্থা আমি চাই না। এতে খরচও বাড়ছে। আমি চাই বাচ্চারা একসঙ্গে ভালোভাবে খাক। সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক।’’
এই ঘটনার খবর সামনে আসতেই কালনা মহকুমা শাসক শুভম আগরওয়াল জানান, তারা ঘটনাটি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিধিদের স্কুলে পাঠিয়েছিলেন। প্রথমে তারা তেমন কিছু পাননি। তবে মহকুমা প্রশাসনের তরফে বিডিও ও এসআই-কে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও স্কুলেই ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা রান্না চলবে না। ‘‘সকলের জন্য একসঙ্গে রান্না, সকলেই একসঙ্গে খাবে’’—এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে স্কুলগুলিকে।
আরও পড়ুনঃ স্টারলিংকের আগেই চমক Jio-র! বাজারে এল হাই-স্পিড ওয়াইফাই সিক্স রাউটার
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে দুই সম্প্রদায়ের অভিভাবক, শিক্ষকমণ্ডলী এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা একত্রে বৈঠকে বসেন। স্কুল কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয়েছে—এবার থেকে একসঙ্গে রান্না হবে, একসঙ্গে খাবে সবাই। আজ থেকেই শুরু হয়েছে এই পরিবর্তন। বাচ্চাদের মধ্যেও এই নতুন উদ্যোগে খুশির আমেজ। শেষ পর্যন্ত এই ঘটনাটি দেখিয়ে দিল, পরিবর্তন সম্ভব। শুধু চাই সদিচ্ছা ও সক্রিয় পদক্ষেপ। বিভেদ নয়, স্কুল হোক সম্প্রীতির পাঠশালা।





