‘ট্যাব চাই নাহলে রাস্তা ছাড়ছি না…’, সরকারের দেওয়া ট্যাবের টাকা দিচ্ছে না স্কুল, অভিযোগ তুলে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ পড়ুয়াদের

ট্যাব চাই, নাহলে রাস্তা ছাড়ছি না, এমনই স্লোগান তুলে রাস্তা অবরোধ করলে একদল পড়ুয়া। অন্যান্য স্কুলে ট্যাবের টাকা দেওয়া হলেও তাদের কেন দেওয়া হচ্ছে না ট্যাব কেনার টাকা, তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলল পড়ুয়ারা। তাদের কথায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক একের পর এক তারিখ দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতিকালে যখন বাড়িতে বসেই চলছিল স্কুল, সেই সময় রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের পড়াশোনার জন্য ট্যাবের টাকা দেওয়ার প্রকল্প চালু করে রাজ্য সরকার। পরে সেই টাকা দেওয়া শুরু হয় একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদেরও। পুজোর আগেই রাজ্য সরকারের তরফে এই ট্যাব দেওয়ার টাকা পাঠানো হয়েছে স্কুলে স্কুলে। কিন্তু অনেক পড়ুয়াদেরই অভিযোগ, তারা ট্যাবের টাকা পাচ্ছেনা।

এমন ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের কাজীপাড়া হরিদাস বিদ্যাভবনে। সেখানে ট্যাবের টাকা না পাওয়ায় পড়ুয়ারা সাগরপাড়ায় রাস্তা অবরোধ করে। বাঁশ দিয়ে আটকে দেওয়া হয় রাস্তা। এর জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে লঙ্গী শেখপাড়া রাজ্য সড়ক। দাঁড়িয়ে যায় একের পর এক বাস, লরি। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় সেখানে।

এই ঝামেলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সাগরপাড়া থানার পুলিশ। পথ অবরোধের কথা শুনে ছুটে আসেন স্কুলের প্রধান শিক্ষকও। পড়ুয়াদের অভিযোগ, “আশপাশের প্রায় সব স্কুলে পড়ুয়ারা ট্যাব কেনার টাকা পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু, আমাদের শুধু আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। আমাদের কাছে বিক্ষোভ দেখানো ছাড়া আর কোনও উপায় নেই”।

এদিকে ,ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দাবী, শুধুমাত্র তাদের স্কুলই নয়, ট্যাবের টাকা পায়নি, এমন ৭৫টা স্কুল রয়েছে। তিনি জানান, তিনি চেষ্টা করছেন যাতে টাকা আসে। কিন্তু পড়ুয়ারা সেকথা বুঝতে নারাজ। বেশ বচসায় জড়িয়ে পড়েন প্রধান শিক্ষক ও পড়ুয়ারা।   

বলে রাখি, শুধুমাত্র এই স্কুলই নয়, বর্ধমানের সিএমএস হাইস্কুলে ঘটেছে আবার অন্য ঘটনা। সেখানে ৪১২ জন পড়ুয়ার মধ্যে ২৮ জন পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে ট্যাবের টাকা ঢোকে নি। এই বিষয়টি ডিআই, অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা), ডিপিওকে জানায় স্কুল। ডিআইয়ের পরামর্শ মত পুলিশের সাইবার থানাতেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে খবর।

আরও পড়ুনঃ ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারকে নিয়োগ করেছিলেন পুলিশ সুপারই, বেআইনি কাজে যুক্ত থাকলেও কীভাবে সঞ্জয়ের নিয়োগ, প্রশ্নের মুখে রাজ্য

এই বিষয়ে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিন্টু রায় বলেন, “স্কুলের পক্ষ থেকে ২৮ জন পড়ুয়াকে ব্যাঙ্কে গিয়ে খোঁজ খবর নিতে বলা হয়। ব্যাঙ্কে গিয়ে পড়ুয়ারা জানতে পারে তাদের অ্যাকাউন্টের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর সহ বেশ কয়েকটি জেলার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সরকারি প্রকল্পের ট্যাবের দশ হাজার টাকা ঢুকেছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় হতাশ হয়ে পড়েছে ট্যাবের জন্য টাকা না পাওয়া ২৮ জন পড়ুয়া”।

RELATED Articles