কেন্দ্রীয় বিজেপির নির্দেশ অনুযায়ী ১০ই জানুয়ারির মধ্যেই সমস্ত জেলা কমিটি তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। মহিলা, যুব-সহ সমস্ত মোর্চা কমিটির গঠনও হয়ে যাওয়ার কথা। বিজেপি সূত্রের খবর, তা হয়েও গিয়েছে কিন্তু নতুন কমিটি ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। আসলে জেলা সভাপতিদের নামের তালিকা প্রকাশ হতেই দলের মধ্যে যেভাবে অশান্তি শুরু হয়েছে, তাতে রাজ্য বিজেপি বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে।
দলবিরোধী মন্তব্য করার জন্য রীতেশ তিওয়ারি ও জয়প্রকাশ মজুমদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু তাতে আদৌ বিক্ষোভের আঁচ কম হবে কী না, তা নিয়ে রয়েছে ধন্ধ। এর সমাধান খুঁজতেই আজ, মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির বিজেপির কার্যালয়ে বৈঠক ডাকলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এই বৈঠকে হাজির থাকবেন সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী। ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত থাকবেন বাছাই করা রাজ্য নেতারা।
বিজেপি-র নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণার পরে পরেই জেলা সভাপতিদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী জেলা সভাপতিরা রাজ্য নেতৃত্বের পরামর্শ মতো কমিটি তৈরি করে তা ঘোষণা করবেন। কিন্তু অভিযোগ, ৭০ শতাংশ জেলা সভাপতিই রাজনীতিতে নবীন। এর পাশাপাশি এমন অভিযোগও ওঠে যে কমিটিতে সমস্ত সম্প্রদায়ের সমান প্রতিনিধিত্ব নেই।
জানা গিয়েছে, ৪২টি কমিটির মধ্যে ৩২টির শীর্ষে এমন সভাপতি বসানো হয়েছে যাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাই শুধু কম নয়, তাঁদের নিয়ে জেলায় নানা গোষ্ঠী সংঘাত রয়েছে। বিদ্রোহীদের অভিযোগ, অমিতাভ চক্রবর্তী নিজে ক্ষমতা ধরে রাখতেই এমন কমিটি তৈরি করেছেন। এর পরেই নানান জায়গায় তৈরি হয় ক্ষোভের পরিবেশ।
প্রথমেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেন মতুয়া বিধায়করা। এর পর বাঁকুড়া জেলার বিধায়করা। রাজ্য কমিটি থেকে বাদ যাওয়া জয়প্রকাশ, রীতেশ ছাড়াও সায়ন্তন বসু-সহ কয়েকজন এই বিদ্রোহে সামিল হন। তাদের নেতৃত্ব দেন বনগাঁর বিধায়ক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। প্রথমে কলকাতায় হয় রুদ্ধদ্বার বৈঠক। এরপর উত্তর ২৪ পরগনায় দু’টি সমাবেশ হয়।
চলতি সপ্তাহে পুরুলিয়ায় এবং হুগলিতে বিদ্রোহীদের কনভেনশন হওয়ার কথা। তা রোখার জন্যই জয়প্রকাশ ও রীতেশকে প্রথমে শোকজের চিঠি এবং পরে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি আদৌ স্বাভাবিক হয়েছে কী না, তা বেশ সন্দেহ রয়েছে। অতীতেও রাজ্য বিজেপি-তে অনেক ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখা গেলেও এ বার যে ভাবে তা নিচুস্তরে পৌঁছে গিয়েছে তা নিয়ে চিন্তিত বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতারাও।
দলীয় সূত্রের খবর, দল এখন উত্তরপ্রদেশ-সহ পাঁচ রাজ্যে ভালো ফল করার চেষ্টায় রয়েছে। এই সময় বাংলার বিষয়ে দিল্লির নেতারা হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। বাংলার নেতৃত্বকেই রাজ্যের সমস্যা মেটাতে হবে। ইতিমধ্যেই এমন নির্দেশ পেয়েছেন সুকান্ত, অমিতাভরা। এই কারণেই তড়িঘড়ি মঙ্গলবারের বৈঠক বলে জানা গিয়েছে। কবে এবং কী ভাবে জেলা কমিটি ঘোষণা করা হবে, তা এই বৈঠকেই স্থির হবে বলে মনে করা হচ্ছে।






