আজ, শনিবার রাজ্যের ৬ উপনির্বাচন কেন্দ্রে ফলপ্রকাশ। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু আসনে জয়ী হয়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। বাকি আসনেও এগিয়ে তৃণমূল। বিজেপির হাতে মাদারিহাটও এখন তৃণমূলের দখলে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবী, ২০২৬ সালে বিজেপিই আসছে বাংলায় ক্ষমতায়।
উপনির্বাচনের ফলাফলের যা ট্রেন্ড তাতে তৃণমূল যে ফের ক্ষমতা গড়তে পারে, তেমন ইঙ্গিত মিলছে। কিন্তু তাতে আমল দিতে নারাজ সুকান্ত মজুমদার। উপনির্বাচনের ফলাফলের পরও বাংলায় পরিবর্তন নিয়ে বড় দাবী করলেন তিনি। বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায়, “উপনির্বাচনে এমনই ফল হয়। কারণ, বহু এলাকায় ভোটই দিতে হয়নি। তবে ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে”।
এদিকে উপনির্বাচনের ফলাফল বলছে, মাদারিহাটে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পো। এই কেন্দ্র এতদিন বিজেপির দখলে ছিল। কিন্তু এবার তাতে ফুটল ঘাসফুল। আবার নৈহাটিতে ৪৮ হাজার ৮৭৯ ভোটে জয়ী হলেন তৃণমূল প্রার্থী সনৎ দে। দিতাইয়ে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী তৃণমূল প্রার্থী সঙ্গীতা রায়। মেদিনীপুরেও এগিয়ে তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা।
উপনির্বাচনে যখন ৬ কেন্দ্রেই সবুজ ঝড় উঠেছে, এমন আবহে ২০২৬ সালে বাংলায় বিজেপির ক্ষমতা দখলের দাবী কীভাবে করলেন সুকান্ত মজুমদার, তার কোনও ব্যাখ্যা অবশ্য তিনি দেন নি। তবে তাঁর সেই দাবী নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “উনি অলীক স্বপ্ন দেখছেন, স্বপ্ন দেখতে বাধা দেব কেন! বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সঙ্গে ছিলেন, আছেন এবং আগামীদিনেও থাকবেন”।
প্রসঙ্গত, অনেকেই ভেবেছিলেন যে আর জি কর কাণ্ডের পর হয়ত তৃণমূলের ভোটবাক্সে প্রভাব পড়বে। তৃণমূলের ভোট কমতে পারে বলে অনুমান করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু তা যে হয়নি, গ্রাম বাংলার দিকে যে আর জি কর কাণ্ডের প্রভাব সেভাবে পড়ে নি, তা এদিনের উপনির্বাচনের ফলাফল থেকেই স্পষ্ট।
এই নিয়ে অবশ্য আবার সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, “উপনির্বাচনে যেমন ফলাফল হয় তেমনি হচ্ছে। মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সরকার গঠন করবে। এই ফলাফল ব্যাতিক্রম নয়, উপনির্বাচনে এমন ফলাফল হয়। তবে ২০২৬ নির্বাচনে বিজেপি সরকার গঠন করবে। কালিয়াগঞ্জের উপনির্বাচন হেরেও জিতেছি”।






