বাথরুমে ঢুকিয়ে নার্সদের এলোপাথাড়ি মারধর, ছেঁড়া হল জামা, সারারাত ধরে হাসপাতালে চলল দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব, ফের সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন!

আর জি করের ঘটনার পর থেকেই সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। প্রথম রাতদখল কর্মসূচির রাতে আর জি করে চলেছিল দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। ভাঙচুর করা হয়েছিল হাসপাতালের নানান বিভাগ। হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারের কাছে একাধিক দাবীও রাখেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয় সরকারের তরফে। নেওয়া হচ্ছে নানান পদক্ষেপ। কিন্তু কোথায় কী! ফের সরকারি হাসপাতালে চলল তাণ্ডব। মারধর করা হল নার্সদের।

ঘটনাটি ঘটেছে বেহালার বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানেই সারারাত ধরে চলেছে ভাঙচুর, তাণ্ডব। প্রচুর ওষুধ-ইঞ্জেকশন নষ্ট করা হয়েছে। নার্সদের বাথরুমে আটকে মারধর চলেছে। এই ঘটনায় তিনজন নার্স আহত বলে খবর। হাসপাতালে পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী।  

কেন এই ভাঙচুর?

জানা গিয়েছে, গতকাল, শুক্রবার সন্ধ্যে সাড়ে ৬টা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীকে ঠাকুরপুকুর থেকে নিয়ে আসা হয় এই হাসপাতালে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু হয়েছিল বটে কিন্তু রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রাত ৯টা নাগাদ ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু করেন রোগীর পরিবার। ধীরে ধীরে বাড়ে বচসা। উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি।

রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ আচমকাই কয়েকশো দুষ্কৃতী ওই হাসপাতালে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। প্রথমে ভিজিটিং গেট ভাঙচুর করা হয়। এরপর জরুরি বিভাগে ঢুকে ঘণ্টাখানেক তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। এমন ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে রোগীরা বেড ছেড়ে পালান। হামলা থেকে বাঁচতে পুরুষ অবসারভেশন ওয়ার্ডে ঢুকে পড়েছিলেন কিছু মহিলা।

এমন হামলার জেরে প্রচুর ওষুধ ও ইঞ্জেকশন নষ্ট হয় বলে অভিযোগ। হামলা চলে নার্সদের উপর। একজন নার্সকে বাথরুমে ঢুকিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনজন নার্স। তাদের চিকিৎসা চলছে।

আরও পড়ুনঃ ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যত কুৎসা হবে, তৃণমূলের লিড তত বাড়বে’, ভোট গণনার আবহেই দাবী তৃণমূল সাংসদের

এমন হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পর্ণশ্রী থানার পুলিশ। সঙ্গে ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। কয়েকজন ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে এই ঘটনায়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকিদের তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আতঙ্কিত এক চিকিৎসক বলেন, “গুরুতর অবস্থায় রোগীকে নিয়ে আসা হয়েছিল, আমরা খুবই অল্প সময় পেয়েছিলাম, সব রকম চেষ্টা করেছি, কিন্তু ওরা কোনোও কথা শুনতে চায়নি”।

RELATED Articles