রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এই পরিস্থিতির আসল কারণ কী? কেউ বলছেন, প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ নয়, আবার কেউ মনে করছেন বিরোধীরা অহেতুক ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে। তবে বাস্তবতা হল, একাধিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি মালদহের মোথাবাড়ির ঘটনা সেই বিতর্ককেই আরও বাড়িয়ে তুলেছে। রাজনৈতিক নেতাদের এলাকায় প্রবেশে বাধা, পুলিশের কড়া অবস্থান এবং বাঁশের ব্যারিকেড ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এই ব্যবস্থা, কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ—তাদের কণ্ঠরোধ করতেই এই পদক্ষেপ। এসব প্রশ্নের মধ্যেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমাদার ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু মাঝপথেই বাধার মুখে পড়েন।
রবিবার সুকান্ত মজুমাদার মোথাবাড়ির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রওনা হন। কিন্তু ৭ কিলোমিটার দূরে সাদুল্লাপুর এলাকায় তাঁকে আটকে দেয় পুলিশ। বিজেপির অভিযোগ, বিশাল বাঁশের ব্যারিকেড তৈরি করে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন সুকান্ত এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় বসে পড়েন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান।
সুকান্ত মজুমাদার পুলিশের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “আমি একা যেতে চেয়েছিলাম, কোনও আইন লঙ্ঘন করিনি। অথচ আমাকে যেতে দেওয়া হল না। অন্যদিকে, তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারছেন। পুলিশের নিরপেক্ষতা কোথায়?” তিনি আরও বলেন, “আমরা তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার কথা জানি, এখন দেখছি প্রশাসনের বাঁশের ব্যারিকেড! এটা কি গণতন্ত্র?”
আরও পড়ুনঃ New Foot Overbridge: দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে চার গুণ প্রশস্ত ব্রিজ, যাত্রীদের জন্য বড় পরিবর্তন!”
এই ঘটনার পর বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সুকান্ত জানিয়েছেন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ করবেন। তবে প্রশাসনের দাবি, এলাকায় শান্তি রক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধীদের মতে, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া কিছুই নয়। আগামী দিনে এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





