বিধানসভা যত এগিয়ে আসছে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ততই বাড়ছে। গত ১৯শে ডিসেম্বর অমিত শাহ্’র উপস্থিতিতে তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তাঁর সঙ্গেই বিজেপিতে যোগ দেন পূর্ব বর্ধমানের সাংসদ সুনীল মণ্ডল। এবার দল ছাড়ার পর বেশ বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবী, প্রায় ১৬ জন তৃণমূল সাংসদ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন। তাঁর এই দাবী ঘিরে বেশ শোরগোল পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
কিছুদিন আগে হেস্টিংসে সুনীল মণ্ডলের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। অভিযোগের আঙুল উঠে তৃণমূলের দিকে। এরপর তাঁকে ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয় তাঁকে। আপাতত ওঁর নিরাপত্তায় রয়েছে ১১ জন সশস্ত্র সিআরপিএফ জওয়ান। এরপরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি।
তাঁর দাবী, বেশ কিছু তৃণমূল সাংসদই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য মুকিয়ে রয়েছেন। অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন তৃণমূল সাংসদ শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দেবেন। তবে তাঁর সব দাবীই নাকোচ করে দিয়েছে শাসকদল। তাদের পাল্টা দাবী, এরকম কোনও ঘটনা ঘটছে না, সুনীল মণ্ডল দিবাস্বপ্ন দেখছেন।
উল্লেখ্য, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলবদল করেছেন বেশ কিছু তৃণমূল নেতা। শুভেন্দুর পর একের পর এক তৃণমূল নেতা-বিধায়ক গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। তবে মুখে স্বীকার না করলেও, একাধিক নেতার দলবদলের জেরে শাসকদল যে বেশ মুষড়ে পড়েছে, তা বিভিন্ন তৃণমূল নেতা, মন্ত্রীর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। এবার সুনীল মণ্ডলের দাবী যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে তৃণমূলে যে নতুন করে সংশয় সৃষ্টি হতে চলেছে, তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।
এদিকে, বছরের দিনই নন্দীগ্রামে জোড়া সভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিনই শুভেন্দুর হাত ধরেই পদ্ম শিবিরে যোগ দেন তাঁর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী। আগামী কালেও যে আরও অনেক নেতা, বিধায়ক ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মফুলে আস্তানা গাড়তে চলেছে, এমন চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন সদ্য বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।





