Suprem court : রাজ্যের আট বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ জট কাটাল সুপ্রিম কোর্ট!

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য (Vice Chancellor) নিয়োগ নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল রাজ্য সরকার ও রাজভবনের মধ্যে। এই অচলাবস্থার জেরে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছিল, পড়ুয়াদের শিক্ষা কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। অবশেষে এই অচলাবস্থার কিছুটা অবসান ঘটাতে হস্তক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এখন নিয়োগ প্রক্রিয়ার নতুন দিগন্ত খুলে গেল বলে মনে করছে শিক্ষা মহল।

সোমবার বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালতের নির্দেশেই প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ইউইউ ললিতের নেতৃত্বে গঠিত সিলেকশন কমিটি উপাচার্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের তালিকা জমা দেয় সর্বোচ্চ আদালতে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ মোট আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে আদালত অনুমোদন দেয়।

তালিকায় থাকা কয়েকজন প্রার্থীর নাম নিয়ে রাজ্যপাল তথা আচার্যের দফতর এবং মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের মধ্যে কিছু মতবিরোধ থাকলেও, যেসব নাম নিয়ে কোনও আপত্তি ছিল না, সেগুলির ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। এর ফলে, উল্লিখিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগের পথ এখন অনেকটাই মসৃণ। আদালত আরও জানিয়েছে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি ইন-চেম্বার অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই নির্দেশ রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে অন্তত আংশিক স্থিতি ফিরিয়ে আনবে।

এর আগে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকার ও রাজভবনের মধ্যে চলছিল এক অদ্ভুত টানাপোড়েন। মোট ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯টিতে নিয়োগ সম্পন্ন হলেও বাকি ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে জট থেকে গিয়েছিল। সূত্রের খবর, কিছু ক্ষেত্রে রাজ্যপাল রাজ্যের পাঠানো তালিকার দ্বিতীয় বা তৃতীয় নাম অনুমোদন করেন, যা সাধারণ প্রথা অনুযায়ী অস্বাভাবিক। এই ঘটনাই মূলত রাজ্য ও রাজভবনের মধ্যে সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছিল।

আরও পড়ুনঃ Supreme Court : ‘সনাতন ধর্মের অপমান মেনে নেব না’— সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি বিআর গভাইকে লক্ষ্য করে জুতো ছোড়ার চেষ্টা আইনজীবীর!

শিক্ষা মহলের মতে, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে স্থিতি ফেরানোর পথে বড় পদক্ষেপ। এর আগে গত অগস্টে আদালতের পরামর্শেই রাজ্যপাল রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে সম্মতি দেন। সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার আরও আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জট মিটল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আদালতের এই নির্দেশ কার্যকর হলে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনিক স্থবিরতা অনেকটাই কাটবে এবং এক নতুন শিক্ষাগত অধ্যায়ের সূচনা হবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles