সুপ্রিম কোর্ট ফের স্পষ্ট জানিয়ে দিল, বাতিল হওয়া ২৬ হাজার স্কুলের চাকরি আর ফিরছে না। মঙ্গলবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেয়। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে শীর্ষ আদালত ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগ তালিকা বাতিল করে নতুন পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। রাজ্য ও কমিশন সেই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিল, কিন্তু আদালত জানাল, আগের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে।
আদালতের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ত্রুটি ছিল OMR শিট সংরক্ষণে গাফিলতি। সেগুলি রাখা হলে দুর্নীতি প্রমাণ বা অপ্রমাণ করা যেত। বরং আদালতের পর্যবেক্ষণ, অনিয়মকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। তাই এই নিয়োগ বৈধ হতে পারে না। বিচারপতিরা বলেন, নির্দোষ প্রার্থীদের কষ্ট অবশ্যই রয়েছে, কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষা আরও জরুরি।
ফলে যাঁরা এই তালিকার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের সবাইকে আবার নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে। রাজ্য, কমিশন এবং চাকরি হারানো প্রার্থীরা মিলে প্রায় ২০০টি রিভিউ পিটিশন দায়ের করেছিলেন, কিন্তু সেগুলি একেবারেই খারিজ হয়ে গেছে। আদালত আগেই বলেছিল, যাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ নেই, তাঁরা আপাতত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে থাকতে পারবেন। তবে স্থায়ী চাকরি পেতে তাঁদেরও নতুন পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। ২৬ হাজার শূন্যপদ এবং নতুন শূন্যপদ মিলিয়েই পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এই রায়ের ফলে চাকরি হারানো বহু শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বছরের পর বছর পড়ানোর পর হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তায় পড়তে হলো। শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল বলেন, “আমাদের মতো নির্দোষরা শাস্তি পেলাম, অথচ আসল দোষীরা বেঁচে গেল। সরকার ও কমিশনের দায়িত্ব আমাদের জীবন বাঁচানো। এই অবস্থায় অনেকেই মানসিক চাপে ভুগছেন।”
আরও পড়ুনঃ Weather; মৌসুমী অক্ষরেখার সক্রিয়তায় আচমকা বেড়েছে বৃষ্টি, শুক্রবার থেকে আবহাওয়ার আরও অবনতি, সতর্কতা জারি রাজ্যের নানা জেলায়
অন্যদিকে, আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই রায় হওয়ারই ছিল। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকার ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীদের বিভ্রান্ত করেছেন। তিনি বলেন, “এত বড় দুর্নীতি হয়েছে, পরিকল্পিত ভাবে OMR নষ্ট করা হয়েছে। তাই একমাত্র সমাধান হলো নতুন পরীক্ষা।” আদালতের নির্দেশে এখন একটাই পথ খোলা, যোগ্যতা প্রমাণ করতে হলে সবার আবার পরীক্ষায় বসতে হবে।





