মমতার সুরে সুর মিলিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র

বিশ্ব যেন করোনার ফাঁদে পড়ে এখন মরণ খেলায় মত্ত হয়ে উঠছে। করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে এখন লকডাউন চলছে। তবুও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা শেষ হচ্ছে না। এই সময় রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়াল বাম প্রতিনিধি সূর্যকান্ত মিশ্র। রবিবার ফেসবুক লাইভে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, পরিস্থিতি সামলা দিতে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে যে অর্থ দেওয়া হয়েছে তা একেবারেই যথেষ্ট নয়। এই সংকটের সময়েও কেন্দ্র সাম্প্রদায়িক বিজন করার চেষ্টা করে চলেছেন। নিজামুদ্দিনের জমায়েতকে হাতিয়ার করেই কেন্দ্র আবার এই কাজে লেগে পড়েছে। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তালে তাল মিলিয়েই অভিযোগ তোলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। তাঁর পরামর্শ, সংক্রমণ ঠেকাতে এই মুহূর্তে লকডাউনের থেকেও দরকার ব়্যাপিড টেস্টিং কিট। কিন্তু সেদিকে কেন্দ্র সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না।

দেশজুড়ে এখন সংক্রমন বেড়েই চলেছে। আর সেই একই হল রাজ্যেও। করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দাবি নিয়ে নবান্নে স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়েছিলেন বাম প্রতিনিধি দল। তাতে ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সূর্যকান্ত মিশ্র নিজে যেহেতু একজন কমিউনিটি মেডিসিনের চিকিৎসক, তাই তাঁর কাছেই মুখ্যমন্ত্রী জানতে চেয়েছিলেন, এই পরিস্থিতিতে সংক্রমন রোধে আর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সূর্যকান্ত মিশ্র সেখানে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব রেখেছেন। সংকটকালে বিরোধিতাকে গৌণ করেন বাংলাকে বাঁচাতে রাজ্য সরকারের পাশে এসে দাঁড়ালেন বাম দলগুলি।

রবিবার ফেসবুক লাইভ থেকেই তাঁর মন্তব্য স্পষ্ট করলেন আরও একবার। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার যে টাকা দিচ্ছে, তা একেবারেই যথেষ্ট নয়। এই মুহূর্তে দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোট ৬ লক্ষ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তার তুলনায় কেন্দ্র যৎসামান্য টাকা দিচ্ছে। যে টাকায় আদৌ কিছু হবে না। এখানেও তিনি নিজামুদ্দিনের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।তার মতে কেন্দ্র এখনও সাম্প্রদায়িক বিভাজন নীতি থেকে সরে আসেনি। দেশের এই দুর্দিনেও দেশবাসীর মনে মুসলিম বিদ্বেষ তৈরি করছে। নাহলে নিজামুদ্দিনে তবলিঘি জামাতের জমায়েতে কেন বিদেশিদের আসার অনুমতি দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক? ঘটনার সময়ই বা কোথায় ছিল দিল্লি পুলিশ আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক?এর ঘটনার দায় কেন্দ্রকেই নিতে হবে বলে দাবি সিপিএম রাজ্য সম্পাদকের।

সেইসঙ্গে সূর্যকান্ত মিশ্র বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে প্রত্যেকের লালারসের পরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন। ব়্যাপিড টেস্ট করেই স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করা সম্ভব। শুধু লকডাউনে কি মানুষের রোগ ধরা পড়বে? টেস্টের মাধ্যমে রোগ ধরা পড়লে সেই জায়গায় মানুষকে নজরবন্দি রেখে চিকিৎসা করা যাবে। সরকারের প্রতি তাঁর বার্তা, “সংক্রমণ ঠেকাতে সঠিক তথ্য প্রকাশ করুন।চেপে যাবেন না। তাহলে মানুষ কিছুটা হলেও সতর্ক হবে।” রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, “সোশ্যাল ডিসট্যান্স নয়, ফিজিক্যাল ডিসট্যান্স মেনে চলুন। মাস্ক পরুন, হাত ধুয়ে নিন বারবার।জরুরি কাজ ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোবেন না।”

আরও অন্যান্য খবর