‘৫৯৬টি মন্দির ভেঙেছে বাংলাদেশে, একবার নয়, একশবার বলব’, শুভেন্দুকে তৃণমূল সেন্সর করার আবেদন জানানোয় গর্জে উঠলেন বিজেপি নেতা

তাঁর বিরুদ্ধে কমিশনে গিয়েছে তৃণমূল। তাঁকে সেন্সর করার আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু তাঁকে যে দমানো সহজ নয়, তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর যে নির্যাতন চলছে, তা নিয়ে তিনি বারবার বলবেন।

গতকাল, সোমবারই জানা যায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করেছে। স্মারকলিপি জমা দিয়ে শুভেন্দুকে সেন্সর করার আবেদন জানানো হয়। তৃণমূলের দাবী, নানান নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু বাংলাদেশ নিয়ে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করছেন।

তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, শুভেন্দুর এই মন্তব্যের জেরে বিদ্বেষ ছড়াবে। সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে সমাজে আগুন লাগানোর চেষ্টা করছেন শুভেন্দু, এমনটাই অভিযোগ করা হয় কমিশনে। এবার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর কথায়, তিনি প্রতিবাদের পথ থেকে সরবেন না।   

গতকাল, সোমবার উপনির্বাচনের জন্য শেষবেলার প্রচারে বাঁকুড়ার সিমলিপালে জনসভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে গেছেন। যান না। প্রতিদিন যান। নো প্রবলেম। বাংলাদেশে ৫৯৬টা মন্দির ভেঙেছে। একবার নয়, একশ’ বার বলব। গোটা পৃথিবীর হিন্দুরা বলবে। ওইটা দেখিয়ে ভোট চাইছি না। যা সত্যি তাই বলছি। আপনি যখন বলেন, তিস্তার জল দেব না। আগে মমতাকে শো-কজ করুন, তার পর আমাকে শো-কজ করবেন। আমি উত্তর দিয়ে দেব”।

আরও পড়ুনঃ আধারে বিশ্বাস করেন না মমতা, কিন্তু ট্যাবের টাকার দুর্নীতি রুখতে আধার কার্ডকেই হাতিয়ার করল মমতা সরকার, বিরোধিতা শুধুই লোক দেখানো? 

এরপরই সম্প্রতি রাজ্যে হিন্দুদের উৎসবে হামলার ঘটনাগুলির কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “আমি বলব, ফালাকাটায় দুর্গামণ্ডপে ঢুকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটব্যাঙ্কের লোকেরা ঘণ্টা বাজবে না, শাঁখ বাজবে না, উলুধ্বনী দেবেন না। আপনার পুলিশ কী করছিল? আইনশৃঙ্খলার কথা বলা যাবে না। গার্ডেনরিচে ঢুকে বলছে চণ্ডীপাঠ করা যাবে না। মাইক বন্ধ রাখুন। মগের মুলুক? আপনার পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে? হাওড়া জেলার শ্যামপুরে বিজয়া দশমীর দিন ৫টা দুর্গামূর্তি ভেঙেছেন। প্রতিবাদ করব না? আমি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিলেও বলব, জয় শ্রী রাম”। এবার তাঁর এহেন মন্তব্যে ফের তৃণমূল কোনও পদক্ষেপ করে কী না, সেটাই দেখার!

RELATED Articles