বাংলায় ভোট জমে উঠেছে। দোষারোপের পালাও শুরু হয়ে গেছে। তবে সবথেকে আকর্ষনীয় সদ্য দলত্যাগীদের প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ। সবেমাত্রই তৃণমূলের সঙ্গে ২০ বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক চুকিয়ে বিজেপির হাত ধরেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তারপর থেকেই প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে নাগাড়ে আক্রমণ করছেন তিনি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে মাঝরাতে হাজির হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর আজ বৃহস্পতিবার সকাল সকাল পৌঁছে গেলেন নেতাইয়েও। গ্রামে ঢুকেই শহিদ-স্মরণ নিয়ে বাংলায় বিধানসভা ভোটের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রাজনীতির অভিযোগ তুললেন এই বিজেপি নেতা।
নিজের বক্তব্য বললেন, “নেতাই নিয়ে আমি কখনও রাজনীতি করিনি। তবে এই বছর এসে দেখলাম পতাকায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। এটা খুবই খারাপ হল। এর জবাব মানুষ দেবে।” একইসঙ্গে নাম না নিয়ে প্রাক্তন মাওবাদী নেতা তথা বর্তমান তৃণমূল নেতা ছত্রধর মাহাতোকে নিয়েও তোপ দাগলেন শুভেন্দু। বিস্ফোরক দাবি করে বললেন, নেতাইয়ের জন্য শুধু সিপিএমই দায়ী ছিল না। জনসাধারণের কমিটির নামে গোটা এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছিল। আর তার জন্যই এত লোক মারা গিয়েছে। অভিযোগ করে তিনি বলেন “নেতাইয়ের ঘটনার জন্য শুধু সিপিএমই দায়ী ছিল না। জনসাধারণের কমিটির নামে গোটা এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তার জন্যই এত লোক মারা গিয়েছে। তারা এসে এখন গণতন্ত্রের কথা বলবে, শুভেন্দুকে লালগড়ে আটকে দেব বলবে! ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দলীয় পতাকা হাতে না থাকলেও এদিন মঞ্চ থেকে শহিদ পরিবারের সদস্যদের পাশে নিয়ে জয় শ্রীরাম, ভারত মাতার জয় স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছে শুভেন্দুকে।
কি নিয়ে উত্তপ্ত হয়েছিল সেদিনের নেতাই? ঘটনা ২০১১ সালের ৭ই জানুয়ারির। লালগড়ের নেতাইয়ে গুলিতে নিহত হন ৯ জন গ্রামবাসী। আর এই ঘটনাকে সামনে রেখেই তৃণমূল চালু করে ‘নেতাই দিবস’। এতদিন তৃণমূলের তরফে নির্ভর যোগ্য নেতা শুভেন্দু অধিকারীই যেতেন শহিদ-তর্পণে সামিল হতে। কিন্তু এ বছরটা আলাদা। তৃণমূল ছেড়েছেন শুভেন্দু। এখন তিনি বিজেপি নেতা। তাই নেতাই দিবসকে সামনে রেখে তৃণমূলও আলাদা কর্মসূচি নিয়েছে। সেখানে এবার পা রাখছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও মদন মিত্র’র মতো নেতারা। এদিন তৃণমূলের প্রতিনিধিদের নেতাই-সফরকে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “আমি এখানে ১১ বছর ধরে আসি। আর শহর থেকে লোকেরা আসে ভোটের আগে।”
এদিন শুভেন্দু বলেন, “আমি এখানে কোনওদিন রাজনীতি করিনি। এখানকার সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। এই সম্পর্ক যদি কেউ ছেঁড়ার চেষ্টা করে, কেউ যদি গত ১০ বছর জেলে কাটিয়ে এসে ভাবে এগুলি করবে তাহলে ভুল করবে।”






