সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayet Election)। এর জেরে ক্রমেই তীব্র হচ্ছে শাসক-বিরোধী দ্বন্দ্ব। কেউই কাউকে একচুলও জমি ছাড়তে নারাজ। বিজেপির (BJP) হাতে এখন শাসক দলকে চাপে রাখার অনেক ইস্যু। একদিকে মন্ত্রী অখিল গিরির (Akhil Giri) রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে করা কুরুচিকর মন্তব্য তো রয়েছেই, তেমনই আবার নারী নির্যাতন, নিয়োগ দুর্নীতি নানান ইস্যুও রয়েছে। এবার ফের একবার শাসক দলকে একহাত নিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
অখিল গিরির মন্তব্যের প্রতিবাদে আজ, সোমবার কলেজ স্কোয়ার থেকে ওয়াই চ্যানেল পর্যন্ত মিছিল করে বিজেপি। এদিন ডোরিনা ক্রসিংয়ের মঞ্চ থেকে রাজ্য সরকারকে বেলাগাম আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, “দ্রৌপদী মুর্মুর অপমান, রাজ্য জুড়ে নারী নির্যাতন, নারীদের উপর অত্যাচার, বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে নারী ও নাবালিকা পাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বাংলাকে রক্ষা করতে হবে। রাষ্ট্রবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে”।
শুভেন্দুর সংযোজন, “এ তো সবে সকাল। ছবি কেনাটা তো আসছে। সুদীপ্ত সেন, গৌতম কুণ্ডু… কার ছবি কিনেছিলেন? লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ছবি? ভেবেছিলেন সারদা পুরনো হয়ে গিয়েছে? অপেক্ষা করুন। ছবি আসছে”।
শুধু তাই-ই নয়, রাজ্য সরকারকে নারী বিরোধী, দুর্নীতিগ্রস্ত বলেও তোপ দাগেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। শাসক দলের ‘পরিবারবাদ’ ‘তোষণ’ নীতি নিয়েও এদিন মুখ খোলেন তিনি। এমনকি, এদিন টেট চাকরিপ্রার্থীকে পুলিশের কামড়ে দেওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন শুভেন্দু। বলেন, “আমার বোন অরুণিমা, সে তো রাজনীতি করে না। তাঁর অভিজ্ঞতা নেই। তাই অরুণিমার হাতে কামড়ে দিল। অরুণিমার অপরাধ কী ছিল?২০১৪-র আপার প্রাইমারি টেট পাশ। নিজের হক চাইতে গিয়েছিল এক্সাইড মোড়ে”।
বেকারত্ব নিয়ে রাজ্যকে দেগে তিনি বলেন, “পাঁচশো টাকায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কোনও সমস্যা নেই। সরকারের টাকা। কিন্তু আপনি শুনে রাখুন আমাদের বাড়ির ছেলেগুলি চাকরি চায়। পশ্চিমবঙ্গের এই দুরাবস্থার হাত থেকে বাঁচাতে চাই। তা একমাত্র পারবে ভারতীয় জনতা পার্টি”।
এদিন শুভেন্দু আরও বলেন, “দ্রৌপদী মুর্মুর মতো একজন জনজাতি-প্রান্তিক মহিলাকে ভারতের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর চোখে মাতৃশক্তি হলেন ঈশ্বরের প্রতিরূপ। মাতৃশক্তিকে আমরা সবসময় সর্বোচ্চ জায়গায় রাখি”।






