বর্তমানে রাজ্য রাজনীতি অন্যতম চরিত্রের নাম রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী এবং মেদিনীপুরের দাপুটে তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বারংবার তাকে নিয়ে দলবদল এর জল্পনা উঠেছে কিন্তু এবার তিনি এক বিজয়া সম্মেলনীতে বেশকিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন যা জল্পনাকে একটু হলেও আবার উসকে দিল। তিনি বললেন যে “আমার সহ্য করার ক্ষমতা আছে তাই সহ্য করি।”
শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামে এক বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন শুভেন্দু। এই মঞ্চ থেকেই তিনি এমন কিছু বক্তব্য পেশ করেন যা প্রকারান্তরে তৃণমূলের কিছু শীর্ষ নেতৃত্বে দিকে তীর ছোঁড়া বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তিনি বলেন, ‘আমি প্যারাসুটে নামিনি এবং লিফটেও উঠিনি। ছোটোলোকদের দিয়ে বাজে কথা বলিয়ে ভেবেছে আমি উত্তর দেব। কুকুর পায়ে কামড়ালে মানুষ কখনও কুকুরের পায়ে কামড়ায় না। আর যতক্ষণ না আমার মুখ থেকে কিছু শুনছেন এই বাজারি সংবাদপত্র পড়ে, টিভি দেখে কিছু ভাববেন না। নিজের কাজ নিজে করুন। কোভিডদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। আমি নিজেই আক্রান্ত। আপনারা দোয়া করেছেন, আশীর্বাদ করেছেন, যত মন্দির আছে, মসজিদ আছে প্রার্থনা করেছেন আমার জন্য। আমি খুব খুশি।’
স্বাভাবিকভাবেই তার এই বিস্ফোরক মন্তব্য গুলোকে নিয়ে রীতিমতো চর্চা পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।তিনি নিজে সিঁড়ি ভেঙে উঠেছেন বলে দাবি করলেন অথচ প্যারাসুট এবং লিফট নিয়ে কাকে খোঁচা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী?অনেকেই বলছেন যে তিনি তৃণমূলের যুবদলের সভাপতি কথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে এই তীরটি ছুড়েছেন।
প্রসঙ্গত কয়েকদিন আগেই মেদিনীপুরে দাঁড়িয়েই নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে বেশকিছু কটাক্ষ করেন ফিরহাদ হাকিম। তার পরই শুভেন্দুর এই বক্তব্য যেন অন্য বার্তা দিচ্ছে। তুমি মুখে বলছেন বটে যে তৃণমূল তিনি ছাড়ছেন না কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তো অন্য কথা বলছে।
কারণ তিনি এও বলেছেন, ‘কেউ কেউ আশ্চর্য হয়ে যায়, অতীত ভুলে যায়। ২০০৩ সালে সিপিএম থেকে এলি, আমি ঝান্ডা ধরালাম। ঘরের মধ্যে গুজুর গুজুর ফুসুর ফুসুর করলি। প্যারাসুটেও নামিনি, লিফটেও উঠিনি। সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে উপরে উঠেছি। আমায় ওসব বলে কোনও লাভ হবে না।’এখানে তিনি নাম না করেই যে কারোর উদ্দেশ্যে খোঁচা দিয়েছেন এই কথা স্পষ্ট।
আগামী ১০ তারিখে ‘রক্তাক্ত সূর্যোদয়ের’ বর্ষপূর্তি। সেদিন গোকুলনগর হাইস্কুলের মাঠে সমাবেশ করবেন তিনি। সেখানে এবার তিনি কি বক্তব্য রাখেন তা নিয়েই চিন্তিত হতে শুরু করেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বরা।





