আজ, শুক্রবার নেতাইয়ে যাওয়ার পথে শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় আটকায় পুলিশ। এর জেরে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। পরে নেতাইয়ের বদলে ভীমপুরে কর্মসূচি পালন করেন শুভেন্দু।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, আজ নেতাইয়ে শুভেন্দু অধিকারীর কর্মসূচি ছিল। সেখানে যাওয়ার পথে তাঁর কনভয় আটকে দেওয়া হয়। পুলিশের তরফে জানানো হয় যে শুভেন্দু যে কনভয় নিয়ে নেতাইয়ে যেতে চাইছেন, তা সেখানে যেতে দেওয়া হবে না। তিনি যদি একা যান, তাহলেই অনুমতি পাবেন।
কিন্তু ঘটনাস্থলে একা যেতে রাজি হন নি বিরোধী দলনেতা। তাঁর সঙ্গে যারা যারা ছিলে৪ন, সকলকে নিয়েই নেতাইয়ে যেতে চেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এর জেরে পুলিশ তাদের যেতে বাধা দেয় বলে জানা যাচ্ছে।
এই কারণে লালগড় ঢোকার মুখে ঝিটকার জঙ্গল থেকে ফিরে আসতে হয় শুভেন্দুকে। এরপর ভিমপুরে অস্থায়ী শহিদ বেদী তৈরি করে নেতাইয়ের শহিদদের উদ্দেশে স্মৃতি তর্পন করেন তিনি। এর পাশাপাশি করেন মাল্যদানও। নেতাইয়ে যাঁরা শহিদ হয়েছিলেন তাঁদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলনেতা। পরবর্তীতে তিনি সিধু-কানুর উদ্দেশেও শ্রদ্ধা জানান। নেতাইয়ে না যেতে পারলেও এই ভাবে ভিমপুরে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন শুভেন্দু।
বলে রাখি, ২০১১ সালে ৭ই জানুয়ারি নেতাই গ্রামে সিপিআইএম নেতা রথীন দন্ডপাটের বাড়িতে ক্যাম্প করে ছিল সশস্ত্র বাহিনী। সেখান থেকে সেই বাহিনীর ছোঁড়া গুলিতে নিহত হন চার মহিলাসহ মোট নয়জন ও আহত হয়েছিলেন ২৮ জন গ্রামবাসী। এরপর থেকেই প্রত্যেক বছর এইদিনে নেতাই গ্রামে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহিদ দিবস পালন করা হয়।
আজকের দিনে তৃণমূলের তরফে পালন হয় শহিদ তর্পণ দিবস। সেখানে উপস্থিত থাকেন সেচ মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র,ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ও বস্ত্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি বিধায়ক অজিত মাইতি, আরও অনেকে।
শুভেন্দু অধিকারী তথা বিজেপির শহীদ তর্পণ করা প্রসঙ্গে এদিন সৌমেন মহাপাত্র বলেন, “বিজেপি নেতাইয়ের মাটিকে কলুষিত করার চক্রান্ত করছে। যে কোনও ব্যক্তি শহীদ তর্পণ করতে পারেন তাতে কোনও বাধা নেই। কিন্তু সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপির এক নেতা নেতাই গ্রামে এসে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানাবেন ।যার ফলে শহীদ বেদী কলুষিত হবে। স্মৃতি তর্পণ করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু নেতাই নিয়ে রাজনীতি করার অধিকার সবার নেই”।
এই প্রসঙ্গে আবার শুভেন্দু বলেন, “নেতাইয়ের শহিদ বেদী শুভেন্দু অধিকারীর পকেটের পয়সায় তৈরি। এখানে তৃণমূলের পয়সা নেই প্রসাশনের পয়সা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধায় গায়ের জোরে বিশ্বাস করেন। হাইকোর্টের রায় থাকা সত্বেও আমায় যেতে দেওয়া হল না এলাকায়”।





