Suvendu Adhikari is on Radical Hindu Path: লোকসভা নির্বাচন হোক বা সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা উপনির্বাচন, সবক্ষেত্রেই বাংলায় বিজেপির কার্যত ভরাডুবিই হয়েছে। নির্বাচনের পর এবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি আর সংখ্যালঘু মোর্চা চান না (Suvendu Adhikari is on Radical Hindu Path)। যারা তাদের সঙ্গে থাকবে, তারাও ওদের সঙ্গেই থাকবেন বলে ঘোষণা বিরোধী দলনেতার।
আজ, বুধবার সায়েন্স সিটিতে বাংলায় বিজেপির ভোট বিপর্যয়ের কারণ বিশ্লেষণ করার বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, ভোটের বিপর্যয়ের জন্য নেতৃত্বের ব্যর্থতা রয়েছে কী না বা সংগঠন দুর্বল কী না, তা পরে খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু সবার আগে বাংলার গণতন্ত্র রক্ষা করা প্রয়োজন (Suvendu Adhikari is on Radical Hindu Path)।
এদিন শুভেন্দু বলেন, “এই যে আমার হাতে ভোটের কালির দাগ দেখছেন ২৬ সালের ভোটে ওরা আমাকেও ভোট দিতে দেবে না। কারণ, আমি হিন্দু। বাড়ির সামনে ৫০ জন জেহাদি বসে থাকবে। পুলিশও কিছু করবে না। তাই যা করার আমাদের এখন থেকেই করতে হবে” (Suvendu Adhikari is on Radical Hindu Path)।
শুভেন্দু এদিন সাফ জানান, “সবকা সাথ সবকা বিকাশ বন্ধ কর। রাষ্ট্রবাদী মুসলিম চাই না। সংখ্যালঘু মোর্চা চাই না। যে আমাদের সাথে, আমি বা আমরা তাদের সাথে। ভোটের আগে অনেক বলেছি রাষ্ট্রবাদী মুসলিম। কিন্তু আর নয়। যারা আমাদের সঙ্গে থাকবে, তাদের সঙ্গে আমরা থাকবো”।
বিরোধী দলনেতার কথায়, “ভয়ঙ্কর অবস্থা। আগে বিরোধী হলে আটকানো হত। এখন হিন্দু বলে আটকানো হচ্ছে। বাংলাকে ইসলামাবাদে পরিণত করার চেষ্টা হচ্ছে। মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হলে উপদ্রুত আইন কার্যকর করে বাংলায় ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে” (Suvendu Adhikari is on Radical Hindu Path)।
জানা গিয়েছে, এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠি দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “বলা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে ভোট করিয়েছে। সেখানে কারচুপির অভিযোগ করা হচ্ছে কেন? আরে ভোটার কার্ড দেখার অধিকারই তো কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দেওয়া হয়নি। তাঁদেরকে বুথের সামনের পাহারায় দাঁড় করিয়ে রেখে অবাধে ভোট লুট হয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা ২ কোটি ৩৩ লক্ষ ভোট পেয়েছি। ওরা ২ কোটি ৭৫ লক্ষ ভোট পেয়েছে। আমাদের ভোটের মধ্যে কোনও মুসলমান ভোট নেই। মমতার ভোটে অর্ধেক জল মেশানো, অর্ধেক মুসলমানের ভোট। ৫০ লক্ষ হিন্দুকে ভোট দিতে দেয় নি তৃণমূল গুণ্ডারা”।
তবে কথা হচ্ছে, এই ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ আসলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্লোগান। আর সেই স্লোগানেরই বিরুদ্ধে যেতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনটা করে কী আদৌ বাংলায় বিজেপির ভোটের অঙ্ক বাড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন তো থেকেই যাচ্ছে (Suvendu Adhikari is on Radical Hindu Path)।
শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি ঘাসফুল শিবির। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “আসলে এটাই শুভেন্দু অধিকারীর চরিত্র। ও আসলে কারোর নয়। ও আসলে বিজেপিরও নয়। ও কেবল নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে বিজেপিতে গিয়েছে। দিলীপ ঘোষকে হারিয়েছে শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারী তো নরেন্দ্র মোদীর কথার অমান্য করছে”।





