বিধায়ক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে গতকাল বিধানসভায় নিজের ইস্তফা পত্র জমা দেন তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তখন অবশ্য উপস্থিত ছিলেন না বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সচিব অভিজিৎ সোমের কাছে নিজের হাতে লেখা পদত্যাগপত্র দাখিল করেন শুভেন্দু। সেটা জমা দেওয়া হয় বিধানসভার রিসিভিং সেকশনে। এর পাশাপাশি অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে ই–মেল করে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন শুভেন্দু।
আজ একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে বিধানসভার অধ্যক্ষ জানান, বিধিসম্মত নয়, তাই গৃহীত হল না শুভেন্দু অধিকারীর ইস্তফাপত্র। তিনি বিবেচনা করে এই বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারী যে আসছেন সে ব্যাপারে তাঁর কাছে কোনও খবর ছিল না। তিনি এদিন বলেন, ‘আমি রোজই বিধানসভায় আসি। বুধবারও ছিলাম। কিন্তু পূর্বঘোষিত কিছু কর্মসূচি থাকায় আমাকে বেরিয়ে যেতে হয়।’
কেনও অবৈধ বলা হচ্ছে শুভেন্দু’র ইস্তফা পত্রকে?
অভিযোগ, শুভেন্দুর ইস্তফাপত্রে রয়েছে ত্রুটি। তিনি কোন কেন্দ্রের বিধায়ক তা তিনি ইস্তফাপত্রে উল্লেখ করেননি। পাশাপাশি ইস্তফাপত্রে কোনও তারিখও লেখা হয়নি বলে বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারীর নাম উল্লেখ না করে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মাননীয় সদস্য যে বিধানসভায় আসছেন এ ব্যাপারে আমার জানা ছিল না। তিনি কখন আসবেন জানতাম না। তাঁর জন্য অপেক্ষা করা তো আমার কাজ না। তিনি বিধানসভার সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সময় চাইতেই পারতেন। আর তারা আমাকে জানালে আমি সে ভাবে ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘যে ভাবে বিধানসভার সচিবের কাছে শুভেন্দু অধিকারী ইস্তফাপত্র দাখিল করেছেন তা বৈধ নয়। এভাবে সচিবের কাছে ইস্তফাপত্র দেওয়া যায় না। এবং ইস্তফাপত্র গ্রহণের ক্ষেত্রে সচিবেরও কোনও এক্তিয়ার নেই। আপাতত শুভেন্দুর ইস্তফাপত্র গৃহীত হচ্ছে না।’ অর্থাৎ এখনও শুভেন্দু তৃণমূলের বিধায়ক পদেই থাকছেন।





