‘তৃণমূলের সঙ্গে কোনও প্রতিনিধিদলে যোগ দেব না’, রাজ্যের দাবী নিয়ে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের দরবার হতে নারাজ শুভেন্দু

এর আগে বিধানসভা (Assembly) কক্ষে তিনি রাজি হয়েছিলেন বটে। কিন্তু রাজ্যের বকেয়া আদায়ের জন্য কেন্দ্র সরকারের (Central Government) কাছে যাওয়ার সময় পিছু হটলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের দাবী নিয়ে আমরা তৃণমূলের (TMC) সঙ্গে কোনও প্রতিনিধিদলে যোগ দেব না”। আর এর জেরে নিজের দায়িত্ব নিয়ে বেশ কটাক্ষের মুখেও পড়তে হল শুভেন্দুকে।  

তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দাবী করেন যে বিরোধী দলনেতার সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কোনও খোঁজ মেলেনি। প্রত্যুত্তরে শুভেন্দু জানান, “২০২১-এ যেভাবে বিধানসভা পরিচালনা করছে শাসকদল, তাতে বাংলার সমস্ত ঐতিহ‌্য মাটিতে মিশে গেছে। বিরোধীদের কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয় না বাংলার বিধানসভায়। বগটুই থেকে ডেঙ্গু, যে কোনও বিষয়ের উপর আলোচনা চাইলেই বলা হয় বিচারাধীন। এমনকী বিরোধী দলনেতাকে সাসপেন্ডও করা হয়”।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এদিন আরও অভিযোগ করে বলেন, শুভেন্দু অধিকারীকে ফোন করেও পাননি তিনি। এই উত্তরে বিরোধী দলনেতা বলেন, “ফোন ধরিনি, কারণ আমার ফোন ট‌্যাপ হয়। ফেসটাইমে ধরেছি। দিল্লি যাওয়ার আগে খসড়া প্রস্তাব চেয়ে পাঠিয়েছিলাম। দলে গঠনতন্ত্র আছে। আলোচনা করে সমস্ত জানাব। কিন্তু দেখলাম, আমার ফোন রাখার আগেই টিভিতে দেখানো হয়ে গেল পরিষদীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলনেতার আলোচনা”।

আসলে, গত ১২ ডিসেম্বর বিষয়টি নিয়ে ফোনে কথা হয়েছিল পরিষদীয় মন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতার। শুভেন্দুর দিল্লি না সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে পালটা তোপ দেগেছেন পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “আমার ও বিরোধী দলনেতার মধ্যে যে আলোচনা হয়েছিল তা রাজ্যের মানুষের স্বার্থেই হয়েছিল। রাজ্যের মানুষের স্বার্থে আলোচনা হয়েছিল বলেই আমি তা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলাম। আসলে রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব আগ্রহী নয়। তাই বিরোধী দলনেতা অজুহাত দেখিয়ে আমাদের সঙ্গে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের দাবী জানাতে অস্বীকার করেছেন। এর আগে বামফ্রন্ট যখন সরকারে ছিল, তখন বিরোধী বিধায়ক হিসাবে আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বহু বার একসঙ্গে রাজ্যের দাবি জানাতে গিয়েছি। কখনও এই ধরনের রাজনীতি করিনি”।

অন্যদিকে আবার, শাসকদলকে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “এই প্রতিনিধিদলে আমাদের কি তারা নিতে চায় নাকি ব‌্যবহার করতে চায়? বিজেপি কর্মীদের কাছে ভুল বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্ল‌্যাকমেল করা উদ্দেশ‌্যে প্রস্তাব এসেছে। সেটা আমরা দেখেছি। আলোচনা করেছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, তৃণমূলের হিংসায় বিজেপি কর্মীদের রক্ত লেগে আছে। যে তৃণমূল বিধানসভার ভিতরে বিজেপি বিধায়কদের শারীরিক নিগ্রহ করে, বিধায়ক-সহ বিরোধী দলনেতাকে সাসপেন্ড করা হয়। সরকারি অনুষ্ঠানে বিজেপি বিধায়কদের ডাকা হয় না, কার্ডেও নাম থাকে না। তাই আমরা একসঙ্গে যাব না”।

এদিন বেশ ক্ষুব্ধ হয়েই বিরোধী দলনেতা বলেন, “আমরা ওদের আবাস যোজনায় দুর্নীতি, ১০০ দিনের কাজের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা সরব হব। যখন যেমন সুযোগ পাব কেন্দ্র সরকারকে তা সবটুকু জানাব”।

RELATED Articles