বিগত বেশ কিছু মাস ধরে নিশ্চিন্তেই দিন কাটছিল সকলের। করোনা একেবারে নির্মূল না হলেও আতঙ্ক কেটে গিয়েছিল। সেভাবে করোনার গ্রাফও বাড়ছিল না। উঠে গিয়েছিল সমস্ত বিধিনিষেধও। কিন্তু মানুষ যা ভাবে, তা আর হয় কোথায়! ফের ফিরছে করোনা আতঙ্ক। দেশে তো বটেই রাজ্যেও এই নিয়ে বেড়েছে উদ্বেগ। এরই মাঝে রয়েছে বড়দিন, গঙ্গাসাগর মেলার মতো জনসমাগমের উৎসব। এমন আবহে কী ফের রাজ্যে নাইট কার্ফু চালু হবে? ফের কী বিধিনিষেধ লাগু হবে?
করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল, বৃহস্পতিবার নবান্নে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “উদ্বেগের কিছু নেই, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে সরকার”। তিনি জানান, “এখনই নাইট কার্ফু বা বিধিনিষেধের কথা ভাবছে না সরকার। সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোভিড বিধি মেনেই গঙ্গাসাগর মেলা হবে”।
চলতি বছরের শেষের দিকে ফের ফিরল করোনা। বিধিনিষেধ শিথিল হতেই ফের হু হু করে সংক্রমণ বাড়ছে চীনে। এই নিয়ে বেশ আতঙ্কে ভারত। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গাইডলাইন জারি করা হয়েছে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তরফে। সংসদে ফের মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নিয়ম চালু হয়েছে।
চীনে যে ওমিক্রন সাব ভ্যারিয়েন্ট তাণ্ডব চালাচ্ছে, সেই বিএফ.৭-র হদিশ পাওয়া গিয়েছে এ দেশেও। ওড়িশার একজন, আর গুজরাতের দু’জনের শরীরের নয়া প্রজাতির ভাইরাস মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্র নির্দেশিকা জারি করার পর রাজ্যে তৎপরতা বেড়েছে। করোনা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে নবান্নে। স্বাস্থ্যসচিবের নেতৃত্বে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। কোভিড বিশেষজ্ঞরাও সেই টিম রয়েছে।
গতকাল তখনও নবান্নে বৈঠক শুরু হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছিলেন রাজভবনে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাতে। এদিন রাজভবন থেকে বেরিয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মমতা বলেন, “দিল্লিতে তো পাওয়া গিয়েছে। দিল্লি থেকে কলকাতা আসতে কতদিন লাগবে? যদি আসে আমরা দেখব, মোকাবিলা করব। আমরা তো ভেবেছিলাম, করোনা শেষ হয়ে গিয়েছে। আবার সেই করোনা চিনে হচ্ছে”।





