এই রাজ্যেও আগামী দিনে গীতাকে পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করা হবে’, জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

কিছুদিন আগেই গুজরাত (Gujarat) সরকার গীতাকে (Gita) সে রাজ্যের পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করেছে। এবার সেই একই কাজ হবে বাংলাতেও (West Bengal)। আজ, সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরে চন্দ্রকোনায় জনসংযোগ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এমনটাই দাবী করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

ঠিক কী বলেছেন শুভেন্দু?

নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, “গুজরাতে যেমন স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে গীতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তেমনই আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে আমরা গীতা পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করব। যাতে গীতা পড়ে আমরা নিজেদের মানুষ করে তুলতে পারি”। এমনকি এই প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের উদ্ধৃতি তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দ বলে গিয়েছেন, নিজের ধর্মের প্রতি আস্থাশীল হবে এবং অপরের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে”।

এদিন এই কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কয়লা পাচার, গরু পাচার নিয়েও রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন শুভেন্দু। বলেন, “এই সরকারের আমলে কয়লা, বালির সঙ্গে গরু পাচারও একটা বড় কেলেঙ্কারি ছিল। অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন কার্যত গরু বর্ডার দিয়ে পাস করানো অনেকটাই সমস্যাজনক হয়ে গিয়েছে। আগে যে গরু পাচার হয়েছে তার সঙ্গে শাসকদলের কলকাতা হয়ে অনেক নেতা জড়িত। শুধু নেতা নয়, বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন থানার ইন্সপেক্টর, ডিআইজি, আইজি পর্যন্ত গোরু পাচারে জড়িত”।

এদিকে গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে গ্রেফতার করার পর আজ, সোমবার প্রথম চার্জশিট জমা করে সিবিআই। এদিনই আবার সিবিআই দফতরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল অনুব্রত মণ্ডলকে। যদিও সেই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “কয়েক বছর আগে তৃণমূল নেতাদের সম্পত্তি বাড়া নিয়ে যে মামলা দায়ের হয়েছে তার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আর্থিক তছরুপের মামলার তদন্তে সবথেকে পারদর্শী ইডি। কয়েক ডজন নেতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী সংস্থা তদন্ত করবে, আমি খুশি। যারা গরীবদের টাকা মেরে নিজেদের সম্পত্তি বাড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে। এক-একজনের ৩০০-৩৫০ গুণ সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছে”।

এখানেই শেষ নয়। এদিন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ শানান শুভেন্দু। বলেন, “রোজভ্যালিতে অভিযুক্ত সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় মেডিক্যাল দেখিয়ে ভুবনেশ্বর থেকে জামিন নিয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থাদের উচিত, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামিন বাতিলের আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া”।

RELATED Articles