গঙ্গাসাগরের নজরদারি কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। এবার এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “রাজ্য় সরকার বিজেপি ও বিরোধী দলনেতাকে ভয় পায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঙ্গল পয়েন্ট এজেন্ডা হচ্ছে বিরোধী দলনেতাকে আটকাও”। তাঁর কথায়, “কমিটিতে থাকার জন্য লালায়িত নই”।
আজ, ১২ই জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিবেকানন্দ রোডে স্বামীজির মূর্তিতে মাল্যদান করেন শ্রদ্ধা জানান শুভেন্দু অধিকারী। এদিন উপস্থিত ছিলেন অগ্নিমিত্রা পালও। সেখানেই গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের শর্তসাপেক্ষ অনুমতি ও নজরদারি কমিটি থেকে তাঁর নাম বাদ পড়া নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হইনি। রাজ্য় সরকারের আপত্তিতে আমাকে না রেখেছেন, তাতেও অসুবিধা নেই। প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত”।
এদিন শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী কোন ব্যক্তি নয়, বিরোধী দলনেতা। বিচারপতির ইচ্ছে হয়েছে যোগ করেছিলেন, আবার বাদও দিয়েছেন। এই যে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য প্রণোদিত”।
অন্যদিকে, গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, “ভারতীয় জনতা পার্টি গঙ্গাসাগর মেলা বন্ধ করার কথাও বলিনি, আবার গঙ্গাসাগর মেলা করতে হবে সেটাও বলি নি”।
উল্লেখ্য, গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে শর্তসাপেক্ষ অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে নতুন নজরদারি কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। আগের বলা তিন সদস্যের নজরদারি কমিটির বদলে এবার তৈরি হয়েছে দুই সদস্যের নজরদারি কমিটি। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় ও রয়েছেন লিগ্যাল সার্ভিসেসেস সদস্য সচিব।
গঙ্গাসাগরের মেলাত নজরদারি কমিটিতে শুভেন্দু অধিকারীর থাকা নিয়ে প্রথম থেকেই বেশ চর্চা শুরু হয়। মামলাকারীদের দাবী ছিল যে শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা। তাই তিনি নজরদারি কমিটিতে থাকলে তাতে রাজনৈতিক রঙ লাগতে পারে। এরপর তাঁকে কমিটি থেকে সরানোর পক্ষে রায় দেয় আদালত।
তবে নজরদারি কমিটি থেকে শুভেন্দুর নাম বাদ পড়ার পিছনে তৃণমূলেরই চক্রান্ত দেখছে বিজেপি। গতকাল, মঙ্গলবার বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আদালত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক। কমিটি থেকে শুভেন্দুকে বাদ দেওয়া তৃণমূলের চক্রান্ত। মেলা নিয়ে আবার ভেবে দেখা প্রয়োজন”।
তিনি আরও বলেন, “রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার যদি কমিটিতে থাকতেন, তাহলে বলতাম রাজনীতিকরণ করা হচ্ছে। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীকে বাদ দিয়ে তৃণমূল প্রশাসন যে কাজ করল, তাতে রাজনীতিকরণ যে হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই”। তাঁর কথায়, “বিরোধী দলনেতা একটা সাংবিধানিক পদ। প্রশাসন যা যুক্তি দেখাচ্ছে, তা দুর্ভাগ্যজনকভাবে আদালত গ্রহণ করছে”।





