‘প্রথম দিন থেকেই নতুন রাজ্যপালকে ম্যানেজ করার জন্য মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী’, ফের মমতাকে বেলাগাম কটাক্ষ শুভেন্দুর

রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকে (C V Anand Bose) নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতির অন্দরে। শুভেন্দুর মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) প্রথম দিন থেকেই নতুন রাজ্যপালকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করছেন। এর পাশাপাশি রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে (Jagdeep Dhankhar) নিয়েও মন্তব্য করেন শুভেন্দু।

বিরোধী দলনেতার কথায়, “মাননীয় জগদীপ ধনকড় যেভাবে আইন ও সংবিধানকে ভঙ্গ করার জন্য রাজ্য সরকারকে চেপে ধরেছিলেন, তাতে মুখ্যমন্ত্রী অনৈতিক কাজে সমস্যা হচ্ছিল। তাই প্রথম দিন থেকে নতুন রাজ্যপালকে ম্যানেজ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মরিয়া হয়ে উঠেছেন। নতুন রাজ্যপাল একজন শিক্ষাবিদ, পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে তাঁর ধারণাও খুব স্পষ্ট। বর্তমান রাজ্যপালের কাজের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে কিন্তু, বিগত তিন মাসে একটিও বেআইনি কাজ বা বেআইনি বিল ছাড়েননি। আমার বিশ্বাস ভবিষ্যতেও ছাড়বেনা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে আমি আশ্বস্ত করতে পারি, রাজ্যপালের ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য। তিনি যদি ভবিষ্যতে এমন কোনও কাজ করেন, তবে সংবিধানের রীতিনীতি মেনে আমি যেখানে জানানোর কথা সেখানে জানাব”।

বিরোধী দলনেতার এহেন মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছে তৃণমূলও। রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন এই প্রসঙ্গে বলেন, “শুভেন্দুবাবু কি মেনে নিলেন যে আগের রাজ্যপালকে তিনি ম্যানেজ করেছিলেন? দেশের সংবিধান ও যুক্তরাষ্ট্র কাঠামো অনুযায়ী প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রধান একসঙ্গে রাজ্যের জন্য কাজ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলার প্রাক্তন এক রাজ্যপালকে দলের মুখপাত্র হিসেবে ব্যবহার করত বিজেপি। রাজভবন বিজেপির পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান রাজ্যপালকে সেটা করতে পারছে না বলে বিজেপি ছটফট করছে”।

পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও শুভেন্দুর এই মন্তব্যের কটাক্ষ করেছেন। তাঁর কথায়, “যে রাজ্যপাল পাশে দাঁড়াবেন তিনি ভালো, না দাঁড়ালেই খারাপ। নিজের পায়ের তলায় শক্ত মাটি নেই। রাজ্যপাল সাংবিধানিক পদ। তাঁর কাজই রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া। তাঁর কোনও রাজনৈতিক মতামত থাকা উচিত নয়। আমার মনে হয় বর্তমান রাজ্যপালের কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শ নেই”।

বলে রাখি, প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কের শীতলতার কথা রাজ্যবাসীর অজানা নয়। বাকযুদ্ধ থেকে শুরু করে টুইটার যুদ্ধ সবই হয়েছে দু’পক্ষের মধ্যে। নবান্ন-রাজভবন সংঘাত রীতিমতো চরমে ওঠে একসময়। তবে নতুন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত কোনও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি রাজ্যের। তিনি বরং বেশ প্রশংসাই করেন মুখ্যমন্ত্রীর। পরবর্তীতে এই সম্পর্কের সমীকরণ কোথায় দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

RELATED Articles