খড়দহে জলমগ্ন আবাসনে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে রাজ্য সরকারকে তীব্র তোপ দাগলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ, বুধবার বিকেলে টুইট করে তিনি শাসকদলকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান।
উল্লেখ্য, টানা বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন খড়দহের বিস্তীর্ণ এলাকা। খড়দহের পাতলিয়ার সরকারি আবাসনে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বাস করতেন বছর চল্লিশের রাজা দাস। বৃষ্টির জেরে জল জমার কারণে তাদের আবাসনে জল ঢুকে যায়।
গতকাল, মঙ্গলবার ঘরের মধ্যেই বাড়ির কোনও কাজে বিদ্যুৎ সংযোগ করতে গিয়েছিলেন রাজা। সেইসময় বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হন তিনি। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হন তাঁর স্ত্রী। মা-বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয় তাদের এগারো বছরের ছেলে। বেঁচে রয়েছে সেই পরিবারের একমাত্র সদস্য চার বছরের এক নাবালক। এই ঘটনায় গোটা রাজ্যে শোরগোল পড়ে যায়।
রাজ্য সরকারকে বিঁধে টুইটারে শুভেন্দু লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিজেই একটি বিপর্যয়। দুর্ভাগ্যবশত খড়দহের একটি জলমগ্ন সরকারি আবাসন কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের ৩ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক লালফিতেই আটকে গিয়েছিল ২ কোটি টাকার পাম্পিং প্রকল্প? ভুল অগ্রাধিকারের দৃষ্টান্ত”।
https://twitter.com/SuvenduWB/status/1440640058743083011?ref_src=twsrc%5Etfw
খড়দহে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। জমা জল পরিস্কার করার জন্য বুধবার সেচ দফতর থেকে ৬টি পাম্প ও দমকল থেকে ২টি পাম্প আনা হয়। তবে ফের বৃষ্টি হলে এলাকা আবার জলমগ্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা। এই কারণে প্রশাসনের তরফে ২ কোটির পাম্পিং প্রোজেক্টে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে যে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তবেই কেন প্রশাসনের টনক নড়ে? এর আগে কোনও পদক্ষেপ কেন নেওয়া হয় না?
আরও পড়ুন- ‘আপনার একটা ভোট না পেলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে আমার’, প্রচারে দাবী মমতার, চাপের মধ্যে তৃণমূল সুপ্রিমো?
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বৃষ্টি বাড়লেই ওই গোটা এলাকা জল থইথই করে। বাড়িতেও জল ঢুকে যায়। বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তাদের অভিযোগ শুধুমাত্র ভোটের সময় রাজনৈতিক নেতাদের দেখা যায়। পরে তাঁদের আর পাওয়া যায় না। তাঁরা বলছেন, “ভোট এলে বাড়ির দুয়ারে দুয়ারে এসে হাতজোড় করে যান নেতারা। ভোট গেল তো সব গেল! তখন আর আমাদের সমস্যার কথা শোনার সময় নেই। এভাবে যে কতদিন চলবে জানি না”।
এদিকে জল জমার কারণ হিসাবে জল নিষ্কাশনে আসা কর্তব্যরত দমকলের অফিসার জানান যে খড়দহ-পাতলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা নীচু জায়গা। ভৌগোলিকভাবে এলাকা কড়াইয়ের মতো হওয়ায় জল জমে যায়। সেই জল পাম্পিং করে তোলা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। অন্যদিকে, খড়দহে এখন কোনও বিধায়ক নেই। এলাকাটি পঞ্চায়েত বা পৌরসভার আয়ত্ত্বাধীনও নয়। এর ফলে কাজ করতে বেশ সমস্যা হয়।





